এ তো আর তেলের শিশি ভাঙার গল্প নয়। এ কোটি কোটি মানুষের ঘর ছাড়ার গল্প। লাখ লাখ মানুষের লাসের গল্প। উল্কা গতিতে দুটি দেশের পিছিয়ে যাওয়ার গল্প। গত চার বছরে বর্ধিষ্ণু ইউরোপের বদলে যাওয়ার গল্প। ২০২২ সাল সব...
এ তো আর তেলের শিশি ভাঙার গল্প নয়। এ কোটি কোটি মানুষের ঘর ছাড়ার গল্প। লাখ লাখ মানুষের লাসের গল্প। উল্কা গতিতে দুটি দেশের পিছিয়ে যাওয়ার গল্প। গত চার বছরে বর্ধিষ্ণু ইউরোপের বদলে যাওয়ার গল্প। ২০২২ সাল সবে মাত্র বিশ্ব অতিমারী পরিস্থিতি সামলিয়ে উঠেছে। হঠাৎই ইউক্রেনে বাজল বিপদ সাইরেন। শয়ে শয়ে রুশ মিশাইল আছড়ে পড়ল কিভের মাটিতে। শুরু হল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া লাগলে দর্শকেরা একটি বিশেষ ভূমিকা নেয়। এক্ষেত্রেও ক্রমাগত বাড়তে লাগল দর্শকের সংখ্যা। ইউক্রেনের আশা ছিল ন্যাটো দাঁড়াবে তাদের পক্ষে। কিন্তু সেরকম কিছুই হল না। বদলে গেল গোটা মহাদেশের অর্থনীতি।
ইউরোপের বহু দেশের ভরসা ছিল রাশিয়ার গ্যাস ও তেল। যুদ্ধের কারণে সেই সরবরাহ কমে গেলে জার্মানির মত শিল্প নির্ভর দেশগুলি সমস্যায় পড়ে। কৃষ্ণসাগরীয় এই যুদ্ধের ফলে উভয় দেশ থেকে লাখো লাখো মানুষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে ,ফলে ইউরোপের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। যুদ্ধের ফলে ইউরোপের দেশগুলি এখন সামাজিক উন্নয়নের থেকে সামরিক ক্ষেত্রে খরচ বেশি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেন শেষপর্যন্ত যোগ দিয়েছে ন্যাটোয়। যার অর্থ বাল্টিক অঞ্চল পুরোপুরি ন্যাটোর প্রভাবাধীন হয়ে গেছে। ট্রাম্পের নিরাপত্তার আশ্বাসে আর চিড়ে ভিজছে না। বুঝিয়ে দিতে শুরু করেছেন ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রনায়কেরা। শান্তি পরিকল্পনা নিয়েও খুব একটা ভূমিকা নিচ্ছে না ইউরোপের দেশগুলি। এতো গেল কৃষ্ণসাগরীয় যুদ্ধে সামগ্রিক ইউরোপের কথা। কিন্তু কেমন আছে যুদ্ধরত দুটি দেশ।
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে,২০২২ সালে জিডিপি প্রায় ২৯% সংকুচিত হয় । শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও বিনিয়োগের ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ইউক্রেনিয়ান হ্রিবনিয়ার পতন হয়। এরপর ২০২৩-২০২৪ সালে ইউক্রেনের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও, পরিকাঠামো ধ্বংস, জনসংখ্যা হ্রাস এবং শ্রমশক্তির অভাব দেশটির অর্থনীতির হাড় পাজরা বের করে দিয়েছে। বিদেশি ভিক্ষায় অর্থনীতি চলছে , বেড়েছে দারিদ্র্যের হার।
অপরদিকে যুদ্ধের ফলে খুব একটা ভালো নেই প্রবল শক্তিধর রাশিয়াও। সুদের হার বেড়েছে উল্কাগতিতে। এর প্রভাব পড়েছে দুনিয়ার অন্য দেশগুলির অর্থনীতিতেও। মূলত যুদ্ধের খরচ যোগার করতে এই পদক্ষেপ। বর্তমানে পূর্ব ইউরোপের দেশটিতে মূল্যবৃদ্ধির হার আকাশ ছোঁয়া। ব্রিকস-ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে মস্কোর সুদের হারই বর্তমানে সবথেকে বেশি। বর্তমানে ডলারের নিরিখে রাশিয়ান রুবলের দামও অনেকটা পড়েছে। ডলারভিত্তিক অর্থনীতিতে লাগাম টানতে ব্রিকস সম্মেলনে ডিজিটাল ব্রিকস মুদ্রার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছিলেন পুতিন। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়ার যা আর্থিক পরিস্থিতি ওই পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে বলে মনে করছেন আর্থিক বিশ্লেষকরা। তবুও যুদ্ধ চলবে। লাভ লোকসানের হিসেব কেউ জানে না। যুদ্ধ একটা নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে বোধহয়।