শক্তি সংগীত রচনা করে তিনি আপামর বাঙ্গালীর মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি হলেন রামপ্রসাদ সেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ কালীভক্ত। সারাদিন ভজন পূজন আরাধনায় তিনি মগ্ন থাকতেন। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য ...
শক্তি সংগীত রচনা করে তিনি আপামর বাঙ্গালীর মনের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনি হলেন রামপ্রসাদ সেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ কালীভক্ত। সারাদিন ভজন পূজন আরাধনায় তিনি মগ্ন থাকতেন। কিন্তু সংসার চালানোর জন্য তাঁকে কলকাতার গরানহাটার জমিদার দুর্গাচরণ মিত্রের কাছারিতে হিসাব রক্ষকের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কাজের মধ্যে সবসময়ই মায়ের সাধনায় গুনগুন করতেন গান। হিসাবের খাতার প্রত্যেক পাতায় শ্যামাসংগীত লিখে পাতা ভর্তি করে রেখেছেন। একদিন জমিদার হিসাবের খাতা চেক করতে এসে দেখলেন হিসাবের খাতায় মায়ের গান লেখা। গানগুলো পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলেন দুর্গাচরণ। তিনি রামপ্রসাদকে খুশি হয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। মুখে বললেন, এ কাজের জন্য তাঁর জন্ম হয়নি। আরো বড় কাজের জন্য এ পৃথিবীতে এসেছো। যাও তোমার সংসার চালানোর জন্য আমি প্রতি মাসে মাসে ৩০ টাকা পাঠিয়ে দেবো। তুমি মায়ের সাধনায় ডুবে যাও।
রামপ্রসাদ দিনের পর দিন হালিশহরের কুমারহট্ট গ্রামে তাঁর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত কালীমায়ের সাধনা করতে লাগলেন। অন্যদিকে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে গান লিখে ও গান শুনিয়ে 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্য লিখে 'কবিরঞ্জন' উপাধি অর্জন করেছিলেন। বাবা রামরাম সেন পুত্র রামপ্রসাদকে শিক্ষায় পূর্ণ করার জন্য সংস্কৃত, পারসী, আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় পারদর্শী করে তুলেছিলেন। বাবা লক্ষ্য করলেন রামপ্রসাদের সংসারের প্রতি কোনো টান নেই। শুধু কালীর বন্দনা তাঁর মুখে। সংসারে মন দেবার জন্য তাকে বিয়ে দিলেন। পুত্রবধূ হলেন সর্বানী। বড় ভালো মেয়ে। কাজকর্মে নিপুনা, সংসারী, আতিথেয়তায় পূর্ণ ছিল তাঁর মন। কিন্তু রামপ্রসাদের বৈরাগ্য সংসারের প্রতি দিনের পর দিন বেড়ে যেতে থাকে। (ক্রমশ)