নীল সমুদ্র। নায়ক নায়িকা পিচ্ছিল গায়ে নোনা সূর্য মাখছে। টানটান প্রেমের দৃশ্য়। হঠাৎই নৌকায় ধাক্কা। কী হল কী হল একটি বিশালাকার হাঙর নৌকাটাকে আক্রমণ করেছে। এরপর হয় হাঙর বধ, নয়তো হাঙরের শিকার। এরকম সিনেমা ...
নীল সমুদ্র। নায়ক নায়িকা পিচ্ছিল গায়ে নোনা সূর্য মাখছে। টানটান প্রেমের দৃশ্য়। হঠাৎই নৌকায় ধাক্কা। কী হল কী হল একটি বিশালাকার হাঙর নৌকাটাকে আক্রমণ করেছে। এরপর হয় হাঙর বধ, নয়তো হাঙরের শিকার। এরকম সিনেমা হলিউডে গণ্ডা খানেক তো রয়েছেই। হাঙর হয়ে উঠেছে একটি অতি ভয়ঙ্কর প্রাণী। নিরীহ মানুষদের আক্রমণ করছে আর কপাকপ খেয়ে নিচ্ছে। দুভাগ করা মানুষের শরীর নীল সমুদ্রে রক্ত ছড়িয়ে পড়ছে আর দর্শক একটা রোমাঞ্চকর আনন্দ পাচ্ছে।

এখানে আপনাদের একটা কথা না বললেই নয়। প্রতি বছর মানুষের হাতে প্রায় দশ কোটি হাঙরের শিকার হলেও, হাঙরের আক্রমণের ঘটনা গোটা চল্লিশের বেশি নয়। তার মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা মেরে কেটে পাঁচ। সমুদ্রের এই প্রাণীটার খাদ্য মূলত সামুদ্রিক মাছ এবং কচ্ছপ। মানুষকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে হাঙর। হাঙর সম্পর্কে কয়েকটা চমকে দেওয়ার মত তথ্য জেনে নিন। পৃথিবীতে যখন গাছ জন্ম নেয়নি তারও আগে থেকে রয়েছে হাঙর। হাঙর রয়েছে আজ থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে। গাছ এসেছে তারও পাঁচ কোটি বছর আগে। পৃথিবীর অনেক পরিবর্তনের পরও হাঙর টিকে আছে স্বমহিমায়। হাঙরের দৃষ্টিশক্তি কিন্তু খুব প্রখর। রাতের বেলাতেও তারা দেখতে পায় তাদের চোখের পলকে ট্যাপেটাম নামে একটি টিস্যুর জন্য। কিছু হাঙর আছে যারা রাতেও জ্বলজ্বল করে। যার অর্থ হাঙর সমুদ্রের এমন অংশে বেচে থাকে যেখানে আলোর এক ছটাও পৌঁছয় না। সবথেকে বড় বিষয় হাঙরের শরীরে কোনও হাড় নেই। তাদের কঙ্কাল তরুণাস্তি দিয়ে গঠিত যা মানুষের কান ও হাড়ের মত নমনীয়। এর তরুণাস্থি ক্যালসিয়াম লবণ দিয়ে শক্তিশালী হয়, তরুণাস্থির জন্য হাঙর হালকা এবং দক্ষ সাঁতারু হিসেবে সমুদ্রে নিজের প্রভাব বজায় রেখেছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৫০০ প্রজাতির হাঙর রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যত হাঙরের কথা শোনা গিয়েছে সবথেকে ভয়ানক বোধয় মেগালোডন। আজ থেকে দুই থেকে আড়াই কোটি বছর আগে এই প্রজাতি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এক একটি মেগালোডন ওজনে ৪৮ টন এবং লম্বায় প্রায় ৫৫ ফুট হত। যা বর্তমান হাঙরের থেকে অন্তত তিন গুণ বড় ছিল। এরা সাধারণত তিমি মাছ এবং ডলফিনের শিকার করত। একটা উদাহরণ দিলে মেডালোডনের সম্পর্কে একটি ধারণা দেওয়া যেতে পারে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া একটি নৌকা সাধারণত ৩০ ফুটের হয়ে থাকে। এই দানব হাঙর প্রায় এই নৌকার দ্বিগুণ। প্রায় পাঁচ থেকে ছ তলা বাড়ির সমান।

একটি মেগালোডনের মুখে প্রায় ধারালো ২৭০ টি দাঁত থাকত। এর এক একটি দাঁত ৭ ইঞ্চি লম্বা। এর বাইট ফোর্স ৮০ টনের সমান। এত শক্তিশালী কামড় বিশ্বে আর কোনও প্রাণীর নেই এবং ছিল না। এই কামড়ের জোরের জন্য মেগালোটনের অসুবিধা হত না সে যুগের সবথেকে ভয়ঙ্কর প্রাণীদের আক্রমণ করতে। এত বড় দেহের জন্য খাবারও বেশী লাগত। একটা সময় শিকারের অভাব দেখা দিলে এরা ছোট ছোট হাঙরদের শিকার করে খেয়ে নিত। আর এটাই বোধহয় এই হাঙরের বিলুপ্তির প্রধান কারন। তবে অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা মেগালোডন এখনও বিলুপ্ত হয়নি। এরা লুকিয়ে আছে সমুদ্রের গভীরে।