মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে নেপালে জাতীয় ছুটি থাকে। পশুপতিনাথ মন্দিরে ব্যাপক ভাবে শিবরাত্রি পালিত হয়। শিবরাত্রি পালিত হয় কাশ্মীরে, এমনকি করাচিতেও রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরে অত্যন্ত ধুমধামে মহাশিবরাত্রি পালিত ...
মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে নেপালে জাতীয় ছুটি থাকে। পশুপতিনাথ মন্দিরে ব্যাপক ভাবে শিবরাত্রি পালিত হয়। শিবরাত্রি পালিত হয় কাশ্মীরে, এমনকি করাচিতেও রত্নেশ্বর মহাদেব মন্দিরে অত্যন্ত ধুমধামে মহাশিবরাত্রি পালিত হয়। বিবাহিত মহিলারা তাদের স্বামীর মঙ্গল কামনা করে এই দিন, অন্যদিকে অবিবাহিত মহিলারা শিবের মত স্বামী কামনা করে ব্রত পালন করেন। সৃষ্টির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল এই দিনে। এই রাতে শিব ও পার্বতী মানে শিব ও শক্তির মিলন হয়েছিল। এই রাতেই ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর অহংকার ভঙ্গ করতে শিব অনন্ত জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হন। এই রাতেই সমুদ্র মন্থনের হলাহল পান করেন দেবাদিবেদ। আবার এও বিশ্বাস করা হয় এই রাতে শিব মহা- তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন।
হিন্দু পুরাণ বিজ্ঞান এবং দর্শনের মেলবন্ধন। শিবকে তুষ্ট করতে বিল্বপত্র বা বেলপাতা অর্পন করা হয়। কেন? সমুদ্র মন্থনে অমৃতের সঙ্গে তীব্র বিষ উঠে এসেছিল। সেই বিষের জ্বালায় বিশ্বে ত্রাহি ত্রাহি রব ওঠে। তখন দেবাদিদেব সেই বিষ পান করেন। বিষ পানের ফলে মহাদেবের দেহের উষ্ণতা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তখন শম্ভুর দেহের তাপ নিবারণের জন্য বিল্বপত্র অর্পণ করা হয়। বিল্বপত্রে রয়েছে ট্যানিন, ফাইবার ও ভিটামিন সি। যার ফলে বিল্বপত্র দেহের প্রদাহ কমায়। বিজ্ঞান আজ জানে, আমাদের পুরাণ হাজার হাজার বছর আগেই তা জেনে গিয়েছিল। মহাদেবকে শিবরাত্রির দিন ধুতরো ফুল এবং ফল অর্পণ করা হয়। এর পিছনে রয়েছে গভীর দর্শন। পুরাণের কাহিনি বলে হলাহল পানের ফলে শিবের হৃদয় থেকে উৎপন্ন হয় বিষাক্ত ধুতরো। তাই ধুতরো শিবের খুব প্রিয়। দর্শন বলছে মহাদেব জগতের যাবতীয় গরল পান করেছেন। তার কাছে ধুতরো দেবার অর্থ নিজেদের অন্তরের গরল তাঁকে সমর্পণ করা। শিবরাত্রির দিন শিবকে ধুতরো ফল-ফুল দিয়ে নিজের চিত্ত শুদ্ধ করেন ভক্ত রা।
শিবরাত্রি কোনও পুজো নয়। এটি একটি ব্রত। পুরাণের কাহিনি অনুসারে। একবার এক ব্যাধ ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে গোটা দিন জঙ্গলে ঘুরে কোনও খাবার যোগার করতে পারেননি। তখন সে ঠিক করে গোটা রাত জঙ্গলে একটি গাছের ওপর কাটিয়ে দেবেন। গোটাদিন নিরম্বু উপবাস থেকে গাছে ওঠে সে। গাছটি ছিল বেল গাছ। গাছের নিকটেই ছিল একটি শিবলিঙ্গ। গাছে ওঠার সময় তার হাতের চাপে একটি শিশির ভেজা বেলপাতা শিবলিঙ্গের ওপরে পড়লে নিজের অজান্তেই ব্যাধের শিবরাত্রি ব্রত সম্পূর্ণ হয়। সেই রাতেই সেই ব্যাথের আয়ুকাল সমাপ্ত হয়। যমদূতেরা তাঁকে নিতে এলে শিবগণ বাধা দেয়। এরপর যম নিজে আসেন। তাঁকে বাধা দেন নন্দীদেব। এরপর উভয়পক্ষ শিবের কাছে গেলে শিব বলেন তাঁর ব্রত যিনি সম্পূর্ণ করেন তাঁকে যমও ছুঁতে পারবেন না। সেই থেকে শিবরাত্রি ব্রত ছড়িয়ে পড়ে মর্ত্যলোকে। সবই কাহিনি। কিন্তু কোথাও এই কাহিনি বিজ্ঞান সংস্কৃতি দর্শনকে ছুঁয়ে যায়।