পৃথিবীতে বাড়ছে আশ্রয়হীনের সংখ্যা। সংখ্যাটা চমকে দেবার মতই। আমাদের পৃথিবীতে মাথার ওপর ছাদ নেই প্রায় ত্রিশ কোটির। চমকে যাচ্ছেন? এই শীতে যখন আমাদের মত কিছু মানুষ মাথার ওপর একটি পোক্ত ছাদ নিয়ে নিজের মোবা...
পৃথিবীতে বাড়ছে আশ্রয়হীনের সংখ্যা। সংখ্যাটা চমকে দেবার মতই। আমাদের পৃথিবীতে মাথার ওপর ছাদ নেই প্রায় ত্রিশ কোটির। চমকে যাচ্ছেন? এই শীতে যখন আমাদের মত কিছু মানুষ মাথার ওপর একটি পোক্ত ছাদ নিয়ে নিজের মোবাইলে এই কপিটা পড়ছি, তখন পৃথিবীর ত্রিশ কোটি মানুষ মোকাবিলা করছে তুষার বৃষ্টির অথবা কনকনে ঠাণ্ডার কিংবা ধুলো ঝড়ের।

এরপরের তথ্যটি আরও চমকে ওঠার মত। পৃথিবীতে গৃহহীন মানুষে তুলনায় ফাঁকা ঘরের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। যার অর্থ, সমস্যাটা গৃহ সংকট নয়, গৃহ বন্টনের। খালি ঘরে প্রবেশাধিকার সংকটের। আমরা যাকে উন্নত অর্থনীতি বলে চিনি, সেখানে প্রায় দশ শতাংশ ঘর খালি পড়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিজন গৃহহীন ব্যক্তির জন্য প্রায় শতাধিক খালি ঘর রয়েছে। কিন্তু সে ঘরে প্রবেশের অধিকার নেই। চিনেও প্রায় লক্ষাধিক খালি সম্পত্তি রয়েছে। লণ্ডন, নিউইয়র্ক, টোকিও, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, কলকাতার মত বেশ কয়েকটি মেগাসিটিতে ফ্ল্যাট অথবা বাড়ি কেনা হয় শুধুমাত্র বসবাসের জন্য নয়। এটি একটি বিনিয়োগও বটে।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান আমাদের আর মৌলিক চাহিদা নয়। বাসস্থান এখন সম্পদ বা বিনিয়োগের মাধ্যম। এছাড়াও খালি ঘর পড়ে থাকার আরও কিছু কারণ আছে। রিয়েল এস্টেট অনেক সময় সম্পত্তি ধরে রাখে টার্গেট মূল্য না পাওয়ার জন্য। অনেক মানুষ রয়েছেন যাদের সাশ্রয়ী মূল্যের বড়ই অভাব, তাই তারা একটি ঘর কিনতে পারছেন না।

তার মানে এই নয় বাজারে ফাঁকা ঘর নেই। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জন্য মানুষ দৈনন্দিন খরচ মিটিয়ে একটি আবাসন কিনতে সক্ষম হন না। আর এ ক্ষেত্রে কোনও দেশের সরকারেরই সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়ার উদাহরণ নেই। যার ফলে একজন ব্যক্তির কাছে হয়তো একাধিক থাকার জায়গা আছে কিন্তু অন্যজন থেকে যাচ্ছে খোলা আকাশের নীচে।