(নিজের ঘোরে ছিলেন কমলাকান্ত। লিখে ফেললেন হিজিবিজি। এআই সাপোর্ট নিয়ে ছবিও এঁকে ফেললেন যেমনটা তিনি ভেবেছেন। এবার অসীম সেনের ওপর নির্দেশ, নিজের নামে লেখাটা তুলে দাও দিকি। বেচারা অসীম সেন আর কী করে?)প্রথম...
(নিজের ঘোরে ছিলেন কমলাকান্ত। লিখে ফেললেন হিজিবিজি। এআই সাপোর্ট নিয়ে ছবিও এঁকে ফেললেন যেমনটা তিনি ভেবেছেন। এবার অসীম সেনের ওপর নির্দেশ, নিজের নামে লেখাটা তুলে দাও দিকি। বেচারা অসীম সেন আর কী করে?)
প্রথমে কল্পতরু তারপর গল্পগরু। সিংহাসনে বসার কিছু দিনের মধ্যেই চমকে দেবার মত ঘোষণা, 'প্রায় নব্বই শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে'। উত্তম। তাহলে বাকি ১৪ বছর ধরে কী হল? বগল বাজালো জনসেবকরা। আমরা ঘাসের ছোট ছোট ফুল, হাওয়াতে নাড়াই মাথা। কচি পাঠ্যে থাকা মানুষগুলি হঠাৎ করে বালি, কয়লা, চাল খেয়ে ঢেকুর তুলল দামোদর শেঠের মত। পাড়ার মোড়ে মোড়ে কিছু অনরামেন্টাল উন্নয়ন হতে লাগল বটে। রাস্তার মোড়ে দুটো সিমেন্টের হরিণ বসল, মাথায় ত্রিফলা। ত্রিফলা মানে মানুষ এতদিন জেনেছিল আমলকী, হরীতকী ও বহেরা। কনসেপ্ট পাল্টালো ধীরে ধীরে। নতুন পার্ক হল, পার্কে বসল বিশাল বুদ্ধ মূর্তি। দু দিন পরে দেখা গেল সাজানো বাগান শুকিয়ে গেছে। ঘাস হলুদ হল। রাত্রি নামতেই বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি বলে সেখানে লুটোপুটি খেতে লাগল সমাজসেবীর একাংশ। অমুক দাদা তমুক দিদি কালীপুজোর সভাপতি হলেন। অমুক কাউন্সিলরের পুজো কার্নিভালে জায়গা পেল। সবাই সবকিছু পেল।
ওদিকে প্রীতম , সুকান্ত, দেবলীনারা বাড়ি থেকে প্লাস্টিক নিয়ে গিয়েছে রাজপথে বসে থাকার জন্য। ওরা চাকরি পেতে পারত।ওদের যোগ্যতা ছিল। কিন্তু সব পেয়েছির আসরে তারা ব্রাত্যই থেকে গেল। কেউ রোল দোকান থেকে কোটিপতি উদ্যোগপতি হলেন। কেউ বা মাগুর মাছ বিক্রি করতে করতে পোহালে শবরী দেখা দিলেন চালকলের মালিক রূপে। চারিদিকে উন্নয়ন খড়গ হাতে দাপাদাপি করতে লাগল। অভিনেতারা কচিনেতা হলেন। তারপর তাঁরা পরিপক্ক হলেন। কেউ রাস্তায় শিল্পের কালো ধোঁয়া দেখলেন। কেউ বা ঘাটালে ঘেটে ঘ করে জলছবির গাজর ঝোলালেন। স্বরূপ দর্শনে বিশ্বাস রাখতে পারলে রিল লাইফে জায়গা মিলল। নয়তো তুমি ভাই আগের বাড়ি দেখ। পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হল রাজার রাজ্যে সবাই গোলাম, করতে হবে রাজার সুনাম, না হয় তোমার কল্লা যাবে, বিরাট কঠিন শাস্তি পাবে। সুবোধ বালক হম্বা হম্বার মধ্যে কামিনী রায়ের কাব্য প্রতিভা খুঁজে পেলেন। রানির আঁকা মাতৃমুখের মধ্যে প্রসন্ন বদনে আঁকিয়ে খুঁজে পেলেন ফ্রিদা কাহলোকে।
রাজ্য জুড়ি গাড়ি চড়ে এগোতে লাগল। হিটলার একবার একটি মুরগির সব পালক ছিঁড়ে তাঁকে গম খেতে দিয়েছিলেন, বুঝিয়েছিলেন বিনা প্রয়াসে পাওয়া ভাতা মানুষকে অনুগত করে। রানি টপ করে শিখে নিলেন সেই গুহ্য জ্ঞান। বেহালার উদ্যোগপতি স্পেনে গিয়ে শালবনির কারখানার কথা ঘোষণা করলেন। শালবনিতে কাচকলার কারখানাও হল না। বাড়ল ভাতা। প্রতি ক্লাবের দায়িত্ব একজন করে তিনু দাদা নিয়ে নিলেন। মাঠ হারিয়ে গেল। নাটকের মহড়া বন্ধ হল। ক্লাবের উন্নয়ন হল বিয়েবাড়ি ভাড়া দিয়ে। চাকরি নেই, শিল্প নেই, ব্যবসা নেই, সাহিত্য নেই, চারিদিকে শুধু নেই, নেই আর নেই। গত পনের বছরে রাজ্য সরকারের কোনও বিভাগে তেমন ভাবে নিয়োগ হল না। সন্দেশখালিতে পিঠে তৈরির কারখানা প্রকাশ্যে এল। রানি হিসেব দিলেন বেকার কমেছে রাজ্যে, নারী সুরক্ষা বেড়েছে । বাঙালি অবাঙালিদের মধ্যে চুলোচুলি লাগিয়ে দেওয়া হল সুচতুর কৌশলে। এরপর মানুষ যখন ফেলে দিল আস্তাকুঁড়ে, দলের ভিতরে কচুরি পানার মত ভাসতে থাকা মুখ গুলি নিজেদের রঙ বদলাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগল। যুবরাজের সেই উদ্দীপ্ত ভঙ্গি আর নেই। শ্বশুরের আধার কার্ড ঠিক রাখছেন, কখন ইডি কড়া নাড়বে সেই আতঙ্কে। কোতোয়ালিতে ডাক পড়তে পাড়ে একাধিক নামের। রানী এখন উকিল রূপে। তবুও ন্যায়ালয়ে গিয়ে চোর স্লোগান শুনলেন। রাজ্য জুড়ে এখন ফাইল চোর, মাছ চোর, বালি চোর , কয়লা চোর বিভিন্ন সুরে বেজে যাচ্ছে। চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়। গ্রীষ্মের তাপ বাড়ছে। খড়কুটো খুঁজে বেড়াচ্ছে ঘাসফুলের দল।