ভোটের কালি কেন দীর্ঘস্থায়ী হয় জানেন? পড়ুন পিছনের রসায়ন। ভোট দেওয়ার পর, আঙুলে ওই নীল কালির দাগ নিয়ে অনেককেই ফ্লেক্স করতে দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু ভোটের পর ওই কালিই তুলতে গিয়েই ...
ভোটের কালি কেন দীর্ঘস্থায়ী হয় জানেন? পড়ুন পিছনের রসায়ন।
ভোট দেওয়ার পর, আঙুলে ওই নীল কালির দাগ নিয়ে অনেককেই ফ্লেক্স করতে দেখা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু ভোটের পর ওই কালিই তুলতে গিয়েই ঘাম ছুটে যায় সবার । জল, সাবান, ক্লেনজার কোনোকিছু দিয়ে ঘষলেই কাজ হয়না তখন। জানেন কি, ত্বকে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কি এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে যার জন্য ওই কালি উঠতেই চায় না আঙ্গুল থেকে ?
শেষ পর্যন্ত জুড়ে থাকুন, জানতে পারবেন দারুন কিছু তথ্য।
এই দীর্ঘস্থায়ী কালির নেপথ্যে যেটি কাজ করে, সেটি আর কিছুই নয়, বিজ্ঞান।
এই ভোটের কালি তৈরীতে মূল যে উপাদানটি ব্যবহৃত হয়, সেটি হলো সিলভার নাইট্রেট। এই ধাতব মিশ্রণটি ত্বকের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ত্বকের প্রোটিন ও ক্লোরাইড আয়নগুলির সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করে ।
সিলভার নাইট্রেট ত্বকের উপরের স্তরে প্রবেশ করার পর সূর্যের আলোতে বিজাড়িত হয়ে ধাতব সিলভারে রূপান্তরিত হয়। এই ধাতব সিলভারের কারণেই ত্বকের উপরে একটি কালো বা গাঢ় নীল রঙের দাগ সৃষ্টি করে।
সিলভার নাইট্রেটের অণুগুলি, ত্বকের কোষের অনুর সঙ্গে এমন আণুবীক্ষণিক স্তরে গিয়ে মিশে যায় যে জল হোক বা স্ক্রাবার কিছু দিয়েই সেটি তোলা সম্ভবপর হয় না।
সিলভার নাইট্রেট ছাড়াও এই কালির মিশ্রনে ব্যবহৃত হয় , ডাই , অ্যালকোহোল বা সালভেট , আর বাইন্ডিং এজেন্ট। মূলত ডাই -এর কাজ হোলো কালিকে তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান করে তোলা। অ্যালকোহোল এই কালিকে দ্রুত শুকোতে সহায়তা করে। আর বাইন্ডিং এজেন্টটি কালীকে দীর্ঘসময় ধরে ত্বকের উপর লেগে থাকতে সাহায্য করে।
সাধারণত এই দাগ ত্বকের ধরণ ও আবহাওয়ার উপর ভিত্তি করে ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় আঙুলের উপর। যেহেতু এটি ত্বকের উপরের মৃত কোষের সঙ্গে জুড়ে থাকে, তাই যতক্ষণ না প্রাকৃতিকভাবে কোষগুলো ঝড়ে যাচ্ছে ততক্ষণ এই রং থেকে যায়। পরিমিত মাত্রায় এটি ব্যবহার করা নিরাপদ হলেও, উচ্চ ঘনত্বের সিলভার নাইট্রেট ত্বকে সরাসরি ব্যবহার করলে , ত্বকে জ্বলাপোড়া র্যাশ সৃষ্টি হতে পারে।
ভারতে এই কালি সরবরাহ করে একমাত্র কর্ণাটকের মাইসোর পেইন্টস অ্যান্ড ভার্নিশ লিমিটেড (MPVL). ইতিহাস ঘাঁটলেই বোঝা যায় ১৯৩৭ সালে মহীশূরের রাজা চতুর্থ কৃষ্ণরাজা ওয়াদিয়ার প্রতিষ্ঠা করা এই কোম্পানি আজও ভারতীয় গণতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য নাম।