বাংলার ভোট কালচার কি সত্যিই পাল্টাচ্ছে এবার?
প্রথম দফা নির্বাচনে কমিশনের বিশেষ নজরে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ছয় জেলা, যা ইতিমধ্যেই অতি স্পর্শকাতর এবং অতি সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত হয়েছে।
সূত্রের খবর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুর, এখনও পর্যন্ত এই ছটি জেলায় বিশেষভাবে নজরে রাখতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। শেষ ১৫ বছরের ইতিহাস ঘেঁটে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত। এবং যাতে বিন্দুমাত্র অশান্তি না হয় তার জন্য নির্বাচন কমিশন এবার আরও কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর। একদিকে অতি স্পর্শকাতর অন্যদিকে অতি সংবেদনশীল এই দুইকে নিয়েই এখন নির্বাচন কমিশনের সবথেকে বড় মাথা ব্যথা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিগতদিনে এই ছয় জেলায় নির্বাচনের দিন যেসব ঘটনা ঘটেছে তাকে আটকাতে নির্বাচন কমিশন এবার অভূতপূর্ব পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। পাশাপাশি প্রথম দফা নির্বাচনের আগে যাদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যেসব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী লোকজন রয়েছে এই জেলাগুলিতে, তাদেরকে আটক করতে হবে বলেই ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। অন্তত নির্বাচন কমিশন সূত্রে তেমনটাই খবর।
বাংলার 'ভোট কালচার' পাল্টাবে এবার?
বাংলার 'ভোট কালচার' যে এবার পাল্টাবে তার আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের কথায়। কালীঘাট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, "(ভোট) কালচার মানে কি বিজেপির ডান্স করা? উনি (সুব্রত গুপ্ত) এখানকার কালচার কী চেঞ্জ করবেন? বেঙ্গলের কালচার, বাংলার কালচার, বাংলাতেই থাকবে। উনি নিজের কালচার ঠিক করুন আগে"।
পরে যখন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে যখন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বাংরবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন তার উত্তরে তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন: ভোট এবার অন্যরকম হবে।
কীরকম ভোট হবে এবার?
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, বুথের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের হাতে। তাই ইভিএমে সেলোটেপ (হামেশাই যে-অভিযোগ ওঠে), ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরায় চুইংগাম লাগানো সহজ হবে না"। বাহিনীকে তো পুলিস নিয়ন্ত্রণ করবে, তাহলে? এবার আরও স্পষ্ট উত্তর, "পুলিসের কাজ হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সহায়তা করা। বুথের নিয়ন্ত্রণ আর পুলিসের হাতে থাকবে না। যাঁরা সীমান্তে সর্বদা পাহারা দিচ্ছেন, সেই জওয়ানদের কাছে একটা বুথ নিয়ন্ত্রণ করা কোনও ব্যাপারই নয়"।
বেচাল দেখলেই পপ আপ দেবে এআই
কমিশন এবার এতটুকু বেচাল দেখলে সংশ্লিষ্ট বুথের ভোট খারিজ করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেবে। রাজ্যের সিইও-র কথায়, "আগে রিপোল (পুনর্নির্বাচন) ছিল এক্সসেপশন, এবার এতটুকু সন্দেহ থাকলেই পুনর্নির্বাচন হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বুথের ভিতর চারজনের বেশি প্রবেশ নিষেধ। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের কোনও একটিতে যদি চারজনের বেশি লোক ঢুকে পড়ে, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে পপ-আপ দেবে এআই। সেই পপআপ দেখলেই তৎদণ্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দ্রুত পদক্ষেপ করবে। প্রত্যেক বুথের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, গুগল ম্যাপ, প্রিসাইডিং অফিসার, সব রয়েছে (সফটওয়্যারে)"। এরপর কমিশনের সাবধানবাণী, "কেউ গন্ডগোল করলে নিজের দায়িত্বে করবে"।