পহেলগাঁও হামলার স্মৃতি এখনও দগদগে সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের মনে। গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীর ভূস্বর্গে ২৬ জন পর্যটককে খুন করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। বেছে বেছে শুধুমাত্র হিন্দুদের টার্গেট করে গুলি করা হয়ে...
পহেলগাঁও হামলার স্মৃতি এখনও দগদগে সমস্ত ভারতীয় নাগরিকের মনে। গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীর ভূস্বর্গে ২৬ জন পর্যটককে খুন করেছিল পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। বেছে বেছে শুধুমাত্র হিন্দুদের টার্গেট করে গুলি করা হয়েছিল। তবে ওই ২৬ জন পর্যটক ছাড়াও আরেকজনের মৃত্যু হয়েছিল সেদিন। তাঁর নাম সৈয়দ আদিল হুসেন। কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। অত্যন্ত দারিদ্রতার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চলত তাঁর। জঙ্গিদের আক্রমণের প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল ওই তাজা তরুণ। নিজের জীবনকে পরোয়া না করেই এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আর যার পরিণতি হয় মর্মান্তিক। তাঁকেও পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা।
এবার সেই ঘটনায় আদিলের পরিবারের জন্য এক অনন্য উদ্যোগ নিলেন কোলাঘাটের একদল পর্যটক। শুক্রবার ওই ৬০ জনের পর্যটক দল কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার হার্পতনাদ গ্রামে গিয়ে পৌঁছায়। সেখানেই শহীদ আদিল হুসেনের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা সৈয়দ হায়দার হুসেন, মা বিবিজান হুসেন এবং তাঁর তিন বোন। সেখানে গিয়ে পর্যটকরা আদিলের আত্মার শান্তি কামনা করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। পাশাপাশি ৬ মাসের খাদ্যসামগ্রী এবং আর্থিক সাহায্যও তুলে দেওয়া হয় তাঁর পরিবারের হাতে।
পর্যটকদের থেকে সাহায্য পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানান আদিলের বাবা সৈয়দ হায়দার হুসেন। বলেন, 'আমার ছেলেকে মনে রেখেছেন, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ। দেশের মানুষ যদি ভয় কাটিয়ে আবার কাশ্মীরে আসেন, তাহলেই আমার ছেলের আত্মা শান্তি পাবে।' সব মিলিয়ে, পাহেলগাঁওয়ের সেই বিভীষিকার মধ্যেও মানবিকতার যে আলো জ্বলেছিল, তা আজও উজ্জ্বল। কোলাঘাটের এই উদ্যোগ যেন সেই সাহস আর মানবিকতারই নতুন বার্তা দিল।