এক কথায় নজিরবিহীন। প্রথম দফা নির্বাচনের আগে এক রাতের মধ্যে ১৩৫ জন 'দাগি অপরাধী'দের গ্রেফতার করল পুলিস। কোচবিহার, দক্ষিন ২৪ পরগণা, মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি পুল...
এক কথায় নজিরবিহীন। প্রথম দফা নির্বাচনের আগে এক রাতের মধ্যে ১৩৫ জন 'দাগি অপরাধী'দের গ্রেফতার করল পুলিস। কোচবিহার, দক্ষিন ২৪ পরগণা, মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি পুলিসের খাতায় এখনও যেসব 'দাগি অপরাধী'রা বাইরে আছে, তাদেরও দ্রুত গারদে ভরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এক রাতের মধ্যে এত গ্রেফতারি, কার্যত নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই। মূলত হিংসামুক্ত ও ভয়মুক্ত ভোটদান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গে হিংসামুক্ত নির্বাচন শেষ কবে হয়েছে, তা মনে করে বলা দায়। নির্বাচন শুরুর আগে, এবং ফলাফল বেরোনোর পর, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে হুমকি, মারধর, খুনের মত ঘটনা। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই চেনা ছবিটা পাল্টে ফেলতে মরিয়া কমিশন। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই যা যা পদক্ষেপ করার, তা করা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের রদবদল থেকে শুরু করে, পুলিস মহলের খোলনলচে বদল, সবটাই সেরে ফেলেছে জ্ঞানেশ কুমারের টিম। এছাড়াও গোটা রাজ্য জুড়ে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আর এবার শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, আগামী বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফা নির্বাচন। ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে দফায় দফায় চলছে কমিশনের বৈঠক। গত শনিবারও জেলার পুলিস আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। ভোটের দিন যে কোনও অশান্তি ঘটনার দেখলেই, তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে ওসিদের সাসপেন্ড করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। সেই বৈঠকেই কমিশন প্রশ্ন তোলে, আগের নির্বাচনে যাদের বিরুদ্ধে অশান্তি পাকানোর অভিযোগ রয়েছে, তাদের কেন গ্রেফতার করা হয়নি এখনও? তারপরেই দাগিদের তালিকা ধরে ধরে শ্রীঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা শুরু করেছে রাজ্য পুলিস।