বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ফের টাটা গোষ্ঠী বিনিয়োগ করবে বলে এই সেদিনও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমতাবস্থায়, যে-সিঙ্গুর থেকে ন্যানো-কারখানা গুটিয়ে নিয়েছিলেন রতন টাটা, সেই সিঙ্গুরে বিজেপির সাংগঠনি...
বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ফের টাটা গোষ্ঠী বিনিয়োগ করবে বলে এই সেদিনও দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এমতাবস্থায়, যে-সিঙ্গুর থেকে ন্যানো-কারখানা গুটিয়ে নিয়েছিলেন রতন টাটা, সেই সিঙ্গুরে বিজেপির সাংগঠনিক সভায় তুমুল হট্টগোল শুরু হল শনিবার। উত্তেজিত হয়ে কেউ বললেন, সব তৃণমূলের দালালদের ডেকে আনা হয়েছে। এমতাবস্থায়, চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। যদিও সাংগঠনিক সভা শেষে সাংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমীকের দাবি, “বিজেপিতে কেউ বিক্ষুব্ধ নন”।
ছাব্বিশের বিধানসভার অকালবোধন হয়েছে চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকেই। একুশের মঞ্চ থেকে দলের প্রচারের সুর বেঁধে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: গেরুয়া শিবিরের হাতে আক্রান্ত বাঙালি অস্মিতা। এমতাবস্থায়, রাজ্য বিজেপির সভাপতির পদে বসেন শমীক ভট্টাচার্য। একদা অতিবাম রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে তাঁর যথাযথ শব্দ চয়নেই বোঝা যায়, বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর দখল কতটা। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, একদা বাম ঘরানার রাজনীতি করেছেন বলেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি হয়ে তৃণমূল-বিরোধিতায় বামেদের আহ্বান করেছেন শমীক। এমনকি, সংখ্যালঘুদের প্রতি তৃণমূল-বিরোধী আহ্বান পৌঁছে দিয়েছেন শমীক। যা কার্যত শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান নয়। গত লোকসভায় বাংলায় বিজেপির খারাপ ফলের পর দলীয় বৈঠকে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওযার বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন, “সবকা সাথ সবকা বিকাশ নয়”।
এই পরিস্থিতিতে, একদা জমি আন্দোলনের গর্ভগৃহ সিঙ্গুলে বিজেপির দলীয় সভায় হট্টগোলের ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েছে বিজেপি। যদিও, সাংগঠনিক সভা শেষ করে বেরিয়ে আসার পর শমীকের বক্তব্য, "বিজেপিতে কেউ বিক্ষুব্ধ নন। যাঁরা চেয়ারে বলেছিলেন তাঁরাও বিজেপি, যাঁরা দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরাও বিজেপি"। কিন্তু চেয়ার ছেড়ে উঠতে হল কেন, এই প্রশ্নের জবাবে শমীকের বক্তব্য, সেটাই তো তাঁর কর্তব্য। প্রসঙ্গত, বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, "রাজ্য সভাপতি হয়েও শমীক নিজেকে দলের সাধারণ কর্মী বলেই মনে করেন"।
একদা এই সিঙ্গুরই বামেদের পতনের কারণ হয়েছিল। এবং এই সিঙ্গুর (এবং নন্দীগ্রাম) থেকেই পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভার আগে অবশ্য সিঙ্গুরে তেমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলায় ৩৪ বছরের বামজমানার অবসান ও পরপর তিনবার বিধানসভায় তৃণমূল সরকার গঠনের মধ্যে কোথাও যেন উহ্য রয়ে গিয়েছে হুগলির জেলার এই জনপদের নাম।