রাজ্যের শাসক শিবির প্রত্যাঘাত করবে, তা প্রত্যাশিত ছিলই। কিন্তু তাই বলে তা এত প্রবল হবে, তা ভাবতে পারেননি পর্যবেক্ষকদের অনেকেই।
'রাহুল পালিয়ে যাবেন না তো'?
ছাব্বিশের বিধানসভায় বাংলায় কংগ্রেসের প্রচারে এসে এদিন একই তিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধলেন রাহুল গান্ধী। এবং, 'ইন্ডিয়া' জোটের 'বারোঘর এক উঠোন'-এ পারস্পরিক মান ও মানভঞ্জনের পালা চললেও বাংলায় কোনও পক্ষই কোনও পক্ষকে সূচ্যগ্র মেদিনী পর্যন্ত ছাড়ল না । সন্ধের দিকে তৃণমূল ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ব্রাত্য বসুর কটাক্ষ, "রাহুল গান্ধী ভোট প্রচার করেছেন, ওঁকে ধন্যবাদ, কিন্তু তিনদিন বাদে আবার কলোম্বিয়া বা ভিয়েতনামে পালিয়ে যাবেন না তো"?
'বিজেপির বি-টিম'
লাটাইয়ের সুতো ছাড়লেন ব্রাত্য আর তারপর সেই সুতোয় উড়াল দিয়ে কুণাল বললেন, "মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লি, বিহারে বিজেপিকে ঠেকাতে পারেননি। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হারিয়ে আবার ক্ষমতায় এলে জাতীয় রাজনীতিতে আরও প্রাসঙ্গিক হবেন। তাই গা-জ্বলছে রাহুল গান্ধীর। এখানে বিজেপির বি-টিম হয়ে এসেছেন"।
'বাংলায় ডাবল লোকসান'?
"ছোট মাঝারি কারখানা কী করবে, আমেরিকার জিনিস সুনামির মতো ভারতে ঢুকলে"? চাঁচলের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদীকে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই তিরে বিঁধে রাহুল বললেন, "আপনারা দেখছেন ছোট-মাঝারি কারখানা তো মমতাজি বন্ধ করে দিয়েছেন। বাংলায় ডাবল লোকসান। মমতাজি বাংলায় শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন। আর দেশে মোদী শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন"।
'ভ্রষ্টাচার, সিন্ডিকেট'
তৃণমূল সরকারের উদ্দেশে রাহুলের তোপ, "সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারী অর্থ ফেরত পাননি, রোজভ্যালি চিটফান্ডে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারী টাকা ফেরত পাননি। কয়লা, বেআইনি খাদান। ট্রান্সপোর্ট থেকে গুন্ডাট্যাক্স কালেক্ট করা হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়। এছাড়া হিংসা, মারপিট, মিথ্যে কথা, কংগ্রেস কর্মীদে উপর আক্রমণ তো রয়েইছে"।
'রাহুল ফ্লপনেতা'
রাহুলকে কুণালের কটাক্ষ, "বিহারে নির্বাচনের আগে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এক-দুদিন প্রচার করে পালিয়ে যাওায়াই তো রাহুলের ট্র্যাক রেকর্ড। দুদিন অন্তর তো বিদেশে ঘুরতে যান। বিজেপির মুখের কথা শোনা যাচ্ছে রাহুলের মুখে। একদম যেখানে যেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের সাফল্যের হার ১০ শতাংশ আর ৯০ শতাংশই ব্যর্থ। অন্যদিকে যেখানে তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াই হয়েছে, সেখানে তৃণমূলের সাফল্যের হার, স্ট্রাইক রেট প্রায় ৭৫ শতাংশ। এখানে ভোট কাটতে আসছেন রাহুল। যেখানে ওঁর দায়িত্ব ছিল বিজেপিকে ঠেকানো, সেখানে ব্যর্থ, একেবারে ফ্লপ নেতা। বিপদে পড়লে মাকে এগিয়ে দেন, কোণঠাসা হলে বোনকে ঠেলে দেন। এই তো ওঁর ট্র্যাক রেকর্ড। মা-বোনের ছায়া থেকে বেরোতে পারলেন না এখনও। এদিকে বড়দের মধ্যে কথা বলতে এসেছেন"।
'চাকরির বদলে বেকারভাতা'
চাঁচলের সভা থেকে সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে রাহুলের তোপ, "বাংলায় বিজেপির পথ প্রশস্ত করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও দেয়নি। এসআইআর-এর মাধ্যমে লোকতন্ত্রকে আক্রমণ করছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসও বাংলার জন্য কাজ করছে না। মোদী ভ্রষ্ট আর তৃণমূলও ভ্রষ্টাচারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বাংলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৫ লাখ মানুষকে রোজগার সুনিশ্চিত করবেন। কতজনকে রোজগার দিয়েছেন তিনি? কত কোম্পানি বন্ধ হয়েছে? কত শিল্প তাদের কারখানা গুটিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে? ৫ লক্ষ বেকারকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল, এখন দেখা যাচ্ছে ৮৪ লক্ষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলা একসময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব ছিল। প্রথমে কমিউনিস্ট, আর তারপর মমতাজি বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন"।
'ইতিহাস জানা উচিত রাহুলের'
বাংলায় বিজেপির পথ প্রশস্ত করেছে তৃণমূল, রাহুলের দাবি। কুণালে কটাক্ষ, "রাহুলের ইতিহাস জানা উচিত, ১৯৮৮ সালে ওঁর বাবার বিরুদ্ধে এই সিপিএম স্লোগান দিত, 'গলি গলি মে শোর হ্যায় রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়'। ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে, কলকাতার শহিদ মিনার ময়দানে, ওঁর বাবার বিরুদ্ধে এই বিজেপি, এই সিপিএম একজোট হয়েছিল। অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে জ্যোতি বসু হাতে হাত ধরে মিটিং করেছিলেন, ভিপি সিংকে মাঝখানে রেখে। উনি সেই বিশ্বাস ঘাতকতার ইতিহাস জানেন না"।