মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯১ টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। পাহাড়ে বাকি ৩ টি আসনে অনীত থাপারের সঙ্গে...
মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ২৯১ টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। পাহাড়ে বাকি ৩ টি আসনে অনীত থাপারের সঙ্গে তৃণমূলের সমঝোতা হয়েছে বলেও জানায় দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। এরপর ২৪ ঘণ্টাও কাটতে পারেনি, জেলায়-জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে প্রার্থীদ্বন্দ্ব। গতবারের জয়ী বিধায়কদের মধ্যে যাঁরা মনোনয়ন পাননি, তাঁদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেন, "টাকার কাছে হেরে গেলাম"। এমতাবস্থায়, প্রার্থীদ্বন্দ্বের আঁচ পড়ল খাস কেষ্টভূমে! বীরভূমের রাস্তায় লুটোপুটো খেতে দেখা গেল তৃণমূলের পোস্টার। কাজল শেখ-গোষ্ঠীর রূপা সাহাকে প্রার্থী করার দাবি উঠল।
প্রসঙ্গত, দলে অনুব্রত-বিরোধী বলে পরিচিত ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখকে বিধানসভাতেও টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। সাঁইথিয়া বিধানসভায় লীলাবতী সাহাকে পুনরায় প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এমতাবস্থায়, লীলাবতীর বদলে যে-রূপাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়ে লিফলেট উড়ে বেড়ালো, দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে তিনি কাজল-ঘনিষ্ঠ নুরুল ইসলামের অনুগামী বলে পরিচিত। যদিও নুরুলের দাবি, বিজেপির আইটি সেল এইসব কাজ করছে, জেলায় কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। যদিও রূপা সাহা কিন্তু দাবি করছেন, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে দলে। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া, "আমিই কি একমাত্র রূপা সাহা নাকি"? তিনি যেহেতু সিউড়ি-২ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, তাই তিনিই সেই রূপা সাহা বলে মনে করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাঁর প্রতিক্রিয়া, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করেছেন, তিনিই আমাদের সকলের প্রার্থী"। তাহলে এইসব লিফলেট ছড়াল কারা, দলেরই অন্য গোষ্ঠী নয়তো? সপ্রতিভ রূপার উত্তর, "সিউড়িতে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে"।
বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, "খেলা হবে ভয়ঙ্কর খেলা হবে বলেন যে-কেষ্ট মণ্ডল, তাঁকে বলি, সাঁইথিয়ায় ভীষণরকম খেলা হচ্ছে। তৃণমূল বনাম তৃণমূল। আজকে পোস্টার পড়ে আছে পুরন্দরপুরের রাস্তায়, রূপা সাহাকে প্রার্থী চাই। আমি কেষ্ট মণ্ডলকে বলব, আপনি নিজেদের মধ্যে খেলাটা আগে খেলে নিন, তারপরে বিজেপিকে চমকাতে ধমকাতে আসবেন"।