"প্রধান শিক্ষিকা ছিলাম, সরকারি পেনশন পাই, পাসপোর্ট পর্যন্ত আছে, তবু নাম বাদ গিয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার চেয়ে স্বেচ্ছামৃত্যুই ভালো", এক নিশ্বাসে বলে গেলেন আরামবাগের তোয়েবউন্নিসা বেগম। এই গরমের মধ্যে তিনি ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন তিনি এসডিও অফিসের সামনে। এসডিও তখন দফতরে নেই। তাই রোদের মধ্যে অপেক্ষা। এসডিও এলেই তাঁর হাতে ধরিয়ে দেবেন চিঠি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে লেখা চিঠি। স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করে চিঠি।
শুধু তোয়েবউন্নিসা একাই নন। অদূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে নুর ইসলাম খাঁ। তাঁরও সেই একই দাবি, স্বেচ্ছামৃত্যু। এ-দেশে এতবছর থাকার পরও নাম বাদ, পরিবার পরিজনের নাম থাকা সত্ত্বেও নাম বাদ। বড় অপমানিত বোধ করছিলেন নুর, "১৯৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন বাবা। আর আমার নামই বাদ"!
আরামবাগ মহকুমার বেশ কয়েকজন প্রৌঢ় ভোটার এইভাবেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন এসডিও অফিসে। যদি ভোটাধিকারই না-থাকল, তাহলে বেঁচে থেকে লাভ কী?
এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণ, ভোট দেওয়া শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয়, অনেক সেন্টিমেন্ট জড়িয়ে থাকে এর মধ্যে।
এই সপ্তাহেই ট্রাইবুনাল পুরোদমে কাজ করতে শুরু করে দেবে। তবু, সংশয় থেকে যাচ্ছে দু-জায়গায়। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)দের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ দিয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা, তাঁদের মধ্যে যাঁরা উতরোতে পারবেন, তাঁরা এবার ভোট দিতে পারবেন কি না। এবং, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ট্রাইবুনালের বিচারেও যাঁদের নাম বাতিল হবে, তাঁরা কি ডি-ভোটার বলে চিহ্নিত হবেন? পড়শি রাজ্যের ডিটেনশন ক্যাম্পের দীর্ঘ ছায়া পড়েছে বাংলার ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রেও।