'বাদ'-এর তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এবং, সেইসঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের কপালের ভাঁজও ক্রমশ বাড়ছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত সোমবার গভীর রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়। এবং...
'বাদ'-এর তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। এবং, সেইসঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের কপালের ভাঁজও ক্রমশ বাড়ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত সোমবার গভীর রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হয়। এবং, তারপর থেকে পর-পর তালিকা প্রকাশ করে চলেছে নির্বাচন কমিশন। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোট-ভবিষ্যৎ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছেড়ে দিয়েই বাংলায় বিধানসভার নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এরপর স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তৈরি করা কমিটিই যা সিন্ধান্ত নেওয়ার তা নেবে। এমতাবস্থায়, প্রথম দফায় ৬০ লক্ষের মধ্যে কমবেশি ২৯ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করা গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)-এর মধ্যে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ই-সাইন করে যতজনের নাম পাঠাবেন, ততজনের নাম প্রকাশিত হবে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়। এমতাবস্থায়, প্রথম তালিকা বেরোতে দীর্ঘ সময় লাগলেও, তারপর কিন্তু ক্রমাগত তালিকা প্রকাশ করে চলেছে কমিশন।
এখনও পর্যন্ত চারটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি, ৩৫ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশন-সূত্রে খবর, ওই ৩৫ লক্ষের মধ্যে কমবেশি ৪৫ শতাংশের নামই 'বাদ' পড়েছে। অর্থাৎ, কমবেশি সাড়ে ১৫ লক্ষ নাম 'বাদ'-এর খাতায় চলে গিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যাঁদের নাম 'বাদ' পড়েছে তাঁরা চাইলে ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হতে পারেন। এবং, তৃণমূল সুপ্রিমো ঘোষণা করে দিয়েছেন যে, 'বাদ' পড়াদের পাশে থেকে তাঁর দল নিখরচায় আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করবে। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। ট্রাইবুনালে বিচারক হিসেবে কারা থাকবেন তা ঠিক হলেও, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত কোথায় কোথায় সেই বিচারকরা বসবেন, তা এখনও পর্যন্ত ঠিক হয়নি। কমিশনের বক্তব্য, রাজ্য যদি তাদের বিভিন্ন দফতরে ট্রাইবুনালের জ্ন্য জায়গা দেয়, তাহলে ভালো। নইলে, টেন্ডার ডেকে বাড়ি ভাড়া করতে হবে। তবে, চাইলে কোনও ভোটার অনলাইনে ও অফলাইনে আবেদনটুকু করতে পারেন, এই যা। এদিকে, প্রথম দফার ভোট হতে আর ৩ সপ্তাহও বাকি নেই। এবং, প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। তারপর, মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য হাতে পড়ে থাকবে হাতেগোনা কয়েকটি দিন। নিয়ম অনুযায়ী, তারপর আর ভোটার তালিকায় কোনও নাম তোলা যাবে না এই ভোট-পর্বে। এমতাবস্থায়, রাজ্য ও রাজ্যের শাসকদলের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছেন, তালিকা ফ্রিজ করা, অর্থাৎ, মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তালিকায় আর নাম না-ওঠার যে রীতি, তা শিথিল করা হোক। এখনও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চের কাছে বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। তাই, এখনও ঠিক হয়নি, মনোনয়ন-পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই ভোটার তালিকায় নাম ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে রীতি মনে, নাকি, 'অস্বাভাবিক পরিস্থিতি'তে 'অস্বাভাবিক নির্দেশ' দিয়ে শীর্ষ আদালত ভোটের আগের দিন পর্যন্ত নাম তোলার অবকাশ রাখবে।