ভোটের দিন ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "সিএপিএফদের তো সীমান্ত সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তার বদলে রাজনৈতিক দলকে সুরক্ষা দিচ্ছেন তারা। দেখুন, প্...
ভোটের দিন ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে এসে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "সিএপিএফদের তো সীমান্ত সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তার বদলে রাজনৈতিক দলকে সুরক্ষা দিচ্ছেন তারা। দেখুন, প্রতিটা বুথ ক্যাপচার করে রেখেছে সিএপিএফ। রাজ্য পুলিস নেই। এমন গণতন্ত্র আমি জীবনে দেখিনি"। এবার সেই পথ অনুসরণ করেই এদিন শশী পাঁজা সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করলেন, "সিআরপিএফ বর্বরের মতো আচরণ করছে"।
এদিন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে স্ট্রংরুম অভিমুখে যাওয়ার সময়ে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ও শ্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজার কাছে পরিচয় পত্র দেখতে চান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। রীতিমতো বিরক্ত হন শশী। যদিও পরিচয় পত্র দেখানোর পর আর কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু, সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষুব্ধ শশী দাবি করেন, "সিআরপিএফ দ্বারা অপমানিত। শুধু আমি নই। ভোটের দিন সিআরপিএফ জনসাধারণের সঙ্গেও একই আচরণ করেছে। অত্যন্ত বর্বর আচরণ। ব্যাজ পরে আছি। তবু আটকাচ্ছে। নিয়মই জানে না। আটকাল কী করে"?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এবারের নজিরবিহীন ভোটের পর কৃতিত্ব যতটা কমিশনের, ততটাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর। দিনরাত এক করে ভোটের দায়িত্ব পালন করেছেন জওয়ানরা। অনেক প্ররোচনা সত্ত্বেও তাঁরা মাথাগরম করেননি। অনেক চাপের মুখেও তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমনকি, ভোটের পরও তাঁদের দায়িত্ব শেষ হয়নি। গণনা পর্যন্ত তাঁদের থাকতে হচ্ছে। এবং, গণনার পরও তাঁদের থাকতে হবে সম্ভাব্য হিংসা এড়াতে। এই পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান পরিচয় পত্র দেখতে চাওয়ায় তাঁকে বর্বর বলে অভিহিত করা কতটা শোভনীয়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না। তাঁদের বক্তব্য, বুথের ভিতর রাজ্য পুলিসকে ঢুকতে না-দিয়ে যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে বাংলার 'ভোট কালচার' পাল্টে দিয়েছে কমিশন, তাতে করে জওয়ানরা যে ঘাসফুল শিবিরের চোখের বালি হবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।