ভোট কালচার কি সত্যিই এবার পাল্টাচ্ছে?
রবিবার নন্দীগ্রামে সারপ্রাইজ ভিজিট দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তার প্রেক্ষিতেই এদিন সন্ধ্যের প্রেস ব্রিফিংয়ের সাংবাদিকদের মন্তব্য, এই প্রথম দেখা গেল রাজ্যের কোনও সিইও ভোটের মুখে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন সরেজমিনে। যেহেতু 'প্রশ্ন' নয়, সেহেতু 'উত্তর'ও এল না। যা এল, তাকে স্বগোতক্তি বলা যেতে পারে: "(আগে কেউ গেছেন কি না) তা নিয়ে বলতে পারবো না, তবে আমি কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের আগে গিয়েছিলাম সেখানে। তাই, আমি তো প্রত্যেক জেলায় যাওয়ার চেষ্টা করবো, যতজন বিডিও আছেন, যতজন ওসি আছেন, যতজন আরও আছেন, যতজন এসপি রয়েছেন তাঁদের সঙ্গে বসবো। দেখবো সেখানে প্রস্তুতি কীরকম, কোথাও পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা আছে কি না, কিছু প্রয়োজন আছে কি না, কোনও প্রশিক্ষণের দরকার আছে কি না, সবকিছুর মূল্যায়ন করবো"।
নন্দীগ্রামেই কেন গেলেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা হয়েছিল বলে?
বিচক্ষণতার সঙ্গে উত্তর এল, " আমরা যাচ্ছি কনফিডেন্স-বিল্ডিংয়ের জন্য। তবে জেলাশাসকদের বলেছি, যদি প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমাকে বলবেন, আমি যাবো। তাঁরা জানালে সেই মতো কর্মসূচি নেবো। যেখানে ভোট-পরবর্তী হিংসা হয়েছিল আগে, যেখানে মানুষ ভয়ের মধ্যে বা হুমকির মুখে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেখানে নিশ্চয় আমরা আগে যাবো"।
রাজ্য রাজনীতিতে গত দু-দশক যে-বিধানসভা কেন্দ্রের নাম বারংবার শিরোনামে উঠে এসেছে, সেই নন্দীগ্রমে গিয়ে রবিবার সর্বদলীয় বৈঠক করছেন তিনি। সেইসঙ্গে রাস্তার ধারের ছোট্ট মুদিখানার দোকানি থেকে শুরু করে সাঁকোয় বালতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলার সঙ্গেও কথা বলে বুঝলেন ও বোঝালেন, "ভয় নেই তো'?
সর্বদলীয় বৈঠকের পর বিজেপি নেতা মলয় সিনহা সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, "সিইও বলেছেন এবার ভোট একেবারে অন্যরকম হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করা হবে"। এবং, পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন জ্ঞানেশ-কথিত অহিংস (Violence Free) এবং ভয়শূন্য (Intimidation Free)" ভোটের কথা।
''বাংলার ভোট কালচার এবার পাল্টাবে'', তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। এবং, দুদিনের বঙ্গসফরে এসে, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার খুব তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেছেন, "রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের তপোভূমিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন আবারও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি ভোটারকে বার্তা দিতে চায়, নির্বাচন হবে অহিংস (Violence Free) এবং ভয়শূন্য (Intimidation Free)"। এবং, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, "আগে ছিল রিপোল ইজ এক্সসেপশন, এবার ডাউট মিনস রিপোল"। বিষয়টি ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বললেন, "অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বুথের ভিতর চারজনের বেশি প্রবেশ নিষেধ। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের কোনও একটিতে যদি চারজনের বেশি লোক ঢুকে পড়ে, তাহলে সঙ্গে-সঙ্গে পপ-আপ দেবে এআই। সেই পপআপ দেখলেই তৎদণ্ডে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কমিশনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে চলে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও দ্রুত পদক্ষেপ করবে। প্রত্যেক বুথের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ, গুগল ম্যাপ, প্রিসাইডিং অফিসার, সব রয়েছে (সফটওয়্যারে)"। এরপরেই তাঁর সাবধানবাণী, "কেউ গন্ডগোল করলে নিজের দায়িত্বে করবে"।