মু্র্শিদাবাদে যখন বাবরি মসজিদের শিলন্যাস করছেন তৃণমূল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবীর, ঠিক তখনই, পাশের জেলা মালদহে তৃণমূল ছেড়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম(AIMIM)-এ যোগ দিচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীরা। এবং, তাঁরা ঘোষণা করছেন, জেলার সবকটি আসনেই প্রার্থী দেবে মিম। আর, কেউ যদি আসন সমঝোতা করতে চায়? উত্তর: স্বাগতম।
বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, ছিপছিপে চেহারা, নতুন যৌবনের মুখ রেজাউল করিম বললেন, "তৃণমূল সংখ্যালঘুদের ঠকিয়েছে এতদিন। এবার তাই আমরা মিম-এ যোগ দিয়েছি। জেলায় ভালো সাড়াও পাচ্ছি"। বাম-কংগ্রেস? মিম-এর জেলা সভাপতি রেজাউলের সপ্রতিভ উত্তর, "দেখুন বামেরা তো এখানে সেভাবে নেই। তবে কংগ্রেস কিছুটা আছে"। আইএসএফ-র সঙ্গে জোট করবেন? রাজ্য নেতৃত্ব সেই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েও রেজাউলের সংক্ষিপ্ত উত্তর, "কেউ জোট করতে চাইলে আসন ছেড়ে দিতে অসুবিধা নেই"। আর, হুমায়ুন কবীর দল গড়লে? "সেই সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না, তবে, সমঝোতা করতে চাইলে তখন দেখা যাবে", বললেন রেজাউল।
সংশোধিত ওয়াকফ আইন বাংলায় চালু হবে না বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আচমকাই, খুব অল্পসময়ের মধ্যে হাজার-হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি নথিপত্র-সহ উমীদ পোর্টালে আপলোড করার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। এদিন তাই সংশোধিত ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে জেলা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান মিম-এর কর্মী, সমর্থকরা।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককের কথা ভেবে ওয়াকফ আর এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যেভাবে গর্জন করেছিলেন তৃণমূল সু্প্রিমো, তার ছিটেফোঁটা বর্ষণও হতে দেখা যায়নি বাংলার মাটিতে। এই পরিস্থিতিতে, সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশই তৃণমূল-বিমুখ হয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদে, মালদহে।
মালদহে কার দখলে কতো আসন?
মালদা জেলায় মোট বারোটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে, একুশের বিধানসভায় মধ্যে কেবল মালতীপুর আসনের লড়াই করেছিল মিম। জেলার ১২ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে, হিন্দু অধ্যুষিত গাজল, ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদহ, হবিবপুর কার্যত বিজেপির দখলে। অন্যদিকে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচল, মালতিপুর, সুজাপুর ও মোথাবাড়ি কার্যত তৃণমূলের দখলে। এবং, যেখানে জনসংখ্যার বিন্যাস আধাআধি, সেই বৈষ্ণবনগর, মানিকচক ও রতুয়া কার্যত তৃণমূলের দখলে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে, বিধানসভা ধরে হিসেবে করে দেখা গিয়েছে, একমাত্র চাঁচল ছাড়া বাকি সব ক-টি আসন থেকে এগিয়েছিল কংগ্রেস ও বিজেপি।
তাহলে?
একদিকে মুর্শিদাবাদ থেকে হুমায়ুন কবীর দাবি করছেন, ছাব্বিশের বিধানসভায় কমবেশি ৯০ টি মুসলিম প্রভাবিত বিধানসভায় তাঁর দল প্রার্থী দেবে ও সেই প্রার্থীরা জয়ীও হবেন। অন্যদিকে, মালদহে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র দল মিম।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমনি-এমনি কি আর দলের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠান থেকে বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "এবারের লড়াই খুব টাফ"!