মালদার মোথাবাড়িতে সাত জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখার ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতাকে তলব করল এনআইএ। রবিবার দুপুর ১২ টার মধ্যে কালিয়াচক থানায় তাঁদের হাজিরার নির্দেশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, সুজাপুর বিধানসভার তৃণম...
মালদার মোথাবাড়িতে সাত জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখার ঘটনায় একাধিক তৃণমূল নেতাকে তলব করল এনআইএ। রবিবার দুপুর ১২ টার মধ্যে কালিয়াচক থানায় তাঁদের হাজিরার নির্দেশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, সুজাপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল রহমানকেও তলব করা হয়েছে আজ। জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে নোটিস পান সাবিনার এজেন্ট। তিনি জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ। তলব পাওয়া তৃণমূল নেতাদের মধ্যে রয়েছেন কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউলও।
উল্লেখ্য, এসআইআরে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি কাজ করার দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা। এসআইআরের কাজে নিযুক্ত মহিলা বিচারকসহ ৭ জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতরে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। অভিযোগ, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের একাংশ বিচারকদের ঘেরাও করেছিলেন। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম 'মাথা' এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও অবস্থায় ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিস। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিস উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিস কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। এই ঘটনা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।
এই গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের দায়িত্বভার দেয় এনআইএ- র হাতে। নিজের বিশেষ ক্ষমতা (সংবিধান প্রদত্ত) প্রয়োগ করে এনআইএ- কে মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্তভার দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। নির্দেশ ছিল তদন্তের সব রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টকে দেবে এআইএ। গোটা তদন্ত হবে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে। তদন্তে নেমে মূল অভিযুক্ত মোফাক্কারুলকে গ্রেফতার করে এনআইএ। একে একে গ্রেফতার করা হয় বাকি অভিযুক্তদেরও। মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১২টি মামলার মধ্যে এর আগে একটিতে জামিন পেয়েছিল মোফাক্কেরুল। কিন্তু বাকিগুলিতে মেলেনি জামিন। ৩০ এপ্রিল ছিল এই মামলার শুনানি। মোফাক্কারুল ইসলাম-সহ ৫২ জন অভিযুক্তের জামিন খারিজ করল এনআইএ আদালত। ১৩ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ অভিযুক্তদের।