রাজ্যের ডিজি থেকে কলকাতা পুলিসের সিপি, প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ঝাঁকুনি দিয়ে অনেক অনেককেই সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার শুরু হল থানা-স্তরে আইসি বা ওসি-বদল। এবং, একেবারে ব্যাপক হারে। কংগ্রেস নেতা অধীর ...
রাজ্যের ডিজি থেকে কলকাতা পুলিসের সিপি, প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ঝাঁকুনি দিয়ে অনেক অনেককেই সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার শুরু হল থানা-স্তরে আইসি বা ওসি-বদল। এবং, একেবারে ব্যাপক হারে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে বিরোধীদের অনেকেই এতদিন দাবি করে আসছিলেন, "এসপি নন, ভোট করান আইসি-রা"। তাই থানাস্তরে বদল না-হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট কখনওই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায়, বিরোধীদের অভিযোগ সিলমোহর দিয়ে থানাস্তরে ১৪২ জন আধিকারিককে বদল করল কমিশন। এখনও অবধি তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, মোটের ওপর তাঁরা সবাই ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। যাঁরা বিভিন্ন থানার ওসি বা আইসি পদের দায়িত্ব রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকদের কাছে যা আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে, এই বদলের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদরে মধ্যে অনেকেই সিআইডি বা আইবি-তে কোনও-না-কোনও দায়িত্বে রয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত পুলিস কর্তাদের কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে পাবলিক-পালস বুঝতে গোয়েন্দাগিরির করে সরকারকে রিপোর্ট দেন আইবি ও সিআইডি-র আধিকারিকরাই।
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা পুলিস ও পুলিস জেলায় এই রদবদল হয়েছে। এই বদলের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা পুলিসের ইনস্পেক্টর পদমার্যাদার ৩১ জন।
আমলা-পুলিস বদল
এর আগে আমলা ও পুলিস-কর্তা বদলের তীব্র সমালোচনা করে এক্সপোস্ট করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, "নির্বাচন কমিশন যেভাবে বেছে বেছে বাংলাকে নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয়, অত্যন্ত উদ্বেগজনকও। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, ডিআইজি, জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব নিয়ে অপসারণ করা হয়েছে। এটি নিতান্তই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং চূড়ান্ত পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, এই উদ্দেশ্যেই নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু, সুপরিকল্পিতভাবে সেই প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণ হয়েছে। যা সংবিধানের উপর সরাসরি আঘাত। যখন একটি মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতোমধ্যেই ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, তখন কমিশনের আচরণে পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হচ্ছে। এবং বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে তার আত্মসমর্পণ প্রতিফলিত হচ্ছে। যা বাংলার মানুষকে ক্রমাগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সরাসরি অগ্রাহ্য করে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। যা নাগরিকদের উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এদিকে, আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেছে বেছে অপসারণ করে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। যা আদতে বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টাকেই ইঙ্গিত করে।
বিজেপি এত মরিয়া কেন? বাংলা ও তার জনগণকে কেন ক্রমাগত নিশানা করা হচ্ছে? স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও নাগরিকদের লাইনে দাঁড় করিয়ে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করে তারা কী ধরনের আত্মতৃপ্তি পাচ্ছে?"