এবার পুলিসের জালে নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। শুক্রবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে আনে পুলিস। পরে শনিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। জানা যাচ্ছে, ত্রাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ রয়েছে বিমান...
এবার পুলিসের জালে নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। শুক্রবার রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে আনে পুলিস। পরে শনিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। জানা যাচ্ছে, ত্রাণ সামগ্রী লুটের অভিযোগ রয়েছে বিমানকৃষ্ণের বিরুদ্ধে। তাঁর বাড়ির পাশের একটি ক্লাব থেকে কম্বল, শাড়ি ও ত্রিপল উদ্ধার করেছে পুলিস। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি না-করে সেগুলি ক্লাবঘরে মজুত করে রেখেছিলেন এই তৃণমূল নেতা। ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল বিমানকে দেখে জুতো, জলের বোতলও ছোড়েন কেউ কেউ।
জানা যাচ্ছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে হানা দেয় পুলিস। সেখানে, ত্রাণ সামগ্রী মজুত রাখা আছে বলে অভিযোগ যায় তাদের কাছে। এরপর ক্লাবঘর খুলতেই বেরিয়ে আসে বস্তা বস্তা কম্বল, শাড়ি ও ত্রিপল। যা দেখে রীতিমত চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায় উপস্থিত সকলের। খবর ছড়াতেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিমানের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, সরকারি অর্থে বরাদ্দ এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী বিলিই করা হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে ক্লাবে অবৈধ ভাবে সেগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল।
এরপর ঘটনাস্থলে পুলিস গিয়ে উত্তপ্ত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বিমানের বাড়ি ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বাড়ি থেকে বিমানকে বার করে গাড়িতে তোলে পুলিস। সেই সময়েই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ওঠে 'চোর' স্লোগান। এমনকি জুতো, জলের বোতলও ছোড়া হয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়লে মৃদু লাঠিচার্জ করে পুলিস।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন। কেন তাঁকে ঘিরে সবাই বিক্ষোভ করছে তাও জানেন না তিনি। কিন্তু এত ত্রাণসামগ্রী কেন তাঁর ফ্ল্যাটের পাশের ক্লাবে মজুত করে রাখা ছিল, তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান।