একশোতে একশো। তা-ও আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই! "যতই হোক, মহিলা তো, সংসারের সব কাজ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ছোট দুই বাচ্চাও আছে আমার", প্রায় এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন শাকিল আখতারি। উত্তর দিনাজ...
একশোতে একশো। তা-ও আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই!
"যতই হোক, মহিলা তো, সংসারের সব কাজ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ছোট দুই বাচ্চাও আছে আমার", প্রায় এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলেন শাকিল আখতারি। উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লকের এই বিএলও একশোয় একশো পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের আগে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ শেষে করেছেন। প্রশিক্ষণ শিবির থেকে শুরু করে গণনা ফর্ম তোলা, সেই ফর্ম নিয়ে দরজায়-দরজায় কড়া নাড়া, কোন বাড়িতে কতজন বৈধ ভোটার রয়েছেন তার খোঁজ নেওয়া, সেই মতো গণনা ফর্ম বিলি করা, ওই ফর্ম ভরতির পর বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তা নিয়ে আসা, সবশেষে, তা ডিজিটাইজ করা!
এতগুলো হার্ডের পেরোলেন কী করে, সমস্যা হয়নি? উচ্ছ্বসিত শাকিলার স্বতঃস্ফূর্ত জবাব, দেখুন, আমি কিন্তু এবার প্রথম এই দায়িত্ব পেলাম। বিএলও-র দায়িত্ব"।
বোঝা গেল, কোন উদ্দীপনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করে একশোয় একশো পেলেন শাকিলা। অনেকেই তো বিক্ষোভ করছেন? এবার শাকিলার সংক্ষিপ্ত, সংযমী ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর, "দেখুন কাজটাকে ভালোবেসে করেছি তো, তাই অসুবিধের কথা ভাবিনি"।
ফের সমস্যার কথা উঠল। আত্মপ্রত্যয়ী শাকিলা এবার ভেঙে বললেন, "যতই হোক, মহিলা তো, সংসারের সব কাজ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ছোট দুই বাচ্চাও আছে আমার। সবদিক সামলে কাজ করেছি। মাঝরাতে অ্যাপ ভালো কাজ করে। সার্ভারের সমস্যা হয় না। ওই সময়ে ফর্ম ডিজিটাইজ করেছি। "
হেমতাবাদের বিডিও বিশ্বজিৎ দত্ত-র কথায়, "রাতে যেহেতু অ্যাপ ভালো কাজ করে, তাই ওঁরা ঘুমের সময় পর্যন্ত পাল্টে ফেলেছিলেন। তাই, কমিশনের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, গণনা ফর্ম বিলি করে, ভরতি ফর্ম সংগ্রহ করে, তা ডিজিটাইজ করেছেন"।
উত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র হেমতাবাদ ব্লকেই ৯৫ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। শুক্রবারের মধ্যে বাকি ৫ শতাংশও শেষ হবে বলে আশাবাদী বিডিও। সেখানকার ৬ জন বিএলও দিন-রাত এক করে কাজ করেছেন। বিডিও অফিসে তাঁদের সম্বর্ধনাও দেওয়া হয়। যাঁদের মধ্যে একমাত্র মহিলা শাকিল আখতারি।