একাদশ-দ্বাদশের ফল প্রকাশের পরই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, ফের আইনি জটে আটকে যাবে না তো শিক্ষক নিয়োগ?
সেই আশঙ্কাই কার্যত সত্যি হল। কেন 'দাগি' প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হল, কেন পুরনোদের জন্য 'অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর' বরাদ্দ করে নতুনদের জন্য নতুন করে বঞ্চনা তৈরি হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। এবং সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি স্পেশাল লিভ পিটিশন করা হয়েছিল। বুধবার দেশের শীর্ষ আদালতে এই সংক্রান্ত পিটিশনের শুনানি হয়। এবং, এই সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা ফের হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ 'দাগি'দের প্রশ্নে আগের অবস্থানে অনড় থেকে ভর্ৎসনা করল রাজ্যকে। সেই সঙ্গে প্রশ্ন তুলল, চাকরিহারাদের জন্য 'অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর' বরাদ্দ করে একইসঙ্গে নতুনদের পরীক্ষা নেওয়া হল কোন যুক্তিতে?
এমতাবস্থায়, আর কিছু হোক-না-হোক, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া অথৈ জলে পড়ল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
কী আশঙ্কা ছিল?
একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সিএন-ডিজিটাল-এ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে এই আশঙ্কার কথা তোলা হয়েছিল।
কী ছিল সেই প্রতিবেদনে?
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলছেন, "লিখিত পরীক্ষায় ৬০-এ ৬০ পেয়েছেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য যে ১০ নম্বর রাখা হয়েছে, সেখানেও ১০ পেয়েছেন, তবু তাঁদের ইন্টারভিউতে ডাকা হচ্ছে না। কাট-অফ মার্কস, মানে নূন্যতম যে-নম্বর পেলে ইন্টারভিউতে ডাক পাওয়ার কথা, তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই, ৭০-এ ৭০ পেয়েও ইন্টারভিউয়ের ডাক পাচ্ছেন না 'নতুন' পরীক্ষার্থীরা। দেখা যাচ্ছে, বাংলা, ইতিহাস, ইংরেজি, প্রতিটি বিষয়েই কাট-অফ মার্কস ৭০-এর ওপর রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, 'চাকরিহারা' পরীক্ষার্থীরা অভিজ্ঞতার জন্য ১০ নম্বর পেয়ে ইতিমধ্যেই এগিয়ে রয়েছে। 'যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক'দের প্রতি সহানুভূতি রয়েছে। কিন্তু, নতুনরা যদি সুযোগ না-পান, তাহলে কেন এই প্রহসন "?
সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল কলেজের অধ্যাপক শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, "রাতের-পর-রাত জেগে প্রস্তুতি নিয়েছেন 'নতুন' পরীক্ষার্থীরা। অনেকে অসাধারণ পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যাঁরা লিখিত পরীক্ষায় ৬০-এ ৬০ পেয়েছেন, অ্যাকাডেমিক স্কোর বা শিক্ষাগত যোগ্যতায় ১০-এ ১০ পেয়েছেন, তাঁরা 'ফুল মার্কস' পেয়েও ইন্টারভিউয়ের ডাক পাচ্ছেন না। কারণ, বিভিন্ন বিষয়ে কাট-অফ মার্কস ৭০-এর উপরে রাখা হয়েছে। নতুন পরীক্ষার্থীরা ৭০-এর মধ্যে ৮০-৯০ নম্বর তো পেতে পারেন না! তাঁদের স্বপ্নভঙ্গের দায় কে নেবে"?
কাট অফ মার্কস কত?
বাংলায় (জেনারেল, পুরুষ-মহিলা) কাট অফ মার্কস ৭৩ নম্বর। বাংলায় (জেনারেল, মহিলা) ৭২ নম্বর। ইতিহাসে (জেনারেল, পুরুষ-মহিলা) ৭৫ নম্বর। ইংরেজিতে (জেনারেল পুরুষ মহিলা) ৭৭ নম্বর। এই পরিস্থিতিতে, ফুল মার্কস পেয়েও ইন্টারভিউ তে ডাক পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই 'নতুন' পরীক্ষার্থীদের।
সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ মনে করছে, এই পরিস্থিতিতে অবধারিতভাবে আদালতে যাবেন 'নতুন'রা। এবং, সেই জট না-ছাড়া পর্যন্ত 'চাকরিহারা'দের নিয়োগও সম্ভবপর হয়ে উঠবে না।
'আশঙ্কা'র প্রতিবেদন শেষ। এরপর?
আশঙ্কা সত্যি হল। তবে, সত্যি না-হলেই ভালো হত।