মণি ভট্টাচার্য : সুপ্রিম কোর্টে তখন এসএসসি মামলার শুনানি চলছে। প্রায় শেষ মুহূর্তে যখন শুনানি, তখন আচমকা প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করে বসেন, এখনই কোনও স্থগিতাদেশ দিচ্ছি না। এরপরে ১০ মিনিট অভ্যন্তরীণ আলোচ...
মণি ভট্টাচার্য : সুপ্রিম কোর্টে তখন এসএসসি মামলার শুনানি চলছে। প্রায় শেষ মুহূর্তে যখন শুনানি, তখন আচমকা প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করে বসেন, এখনই কোনও স্থগিতাদেশ দিচ্ছি না। এরপরে ১০ মিনিট অভ্যন্তরীণ আলোচনার জন্য সময় চেয়ে নেন বিচারপতিরা। ততক্ষনে সমস্ত নিউজ মিডিয়া ব্রেকিং চালিয়ে দিয়েছে, \'হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট।\' শুরু হয়েছে জোর তরজা। সেই মুহূর্তে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল যোগ্য চাকরিহারাদের মাথায়। কারোর মনে হয়েছিল হয়ত এবার লড়াইটা ছেড়ে দেব। কিন্তু ঠিক তাঁর পরেই পাশা উল্টে গেল। ১০ মিনিট পর যখন রায় পড়তে বসলেন বিচারপতিরা। তখন রীতিমত সবাইকে চমকে দিয়ে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় হাইকোর্টের সমস্ত রায়ে স্থগিতাদেশ দিলেন।
সংক্ষিপ্ত আকারে ঠিক কি রায় দিলেন বিচারপতি!
*যোগ্য-অযোগ্য চাকরিজীবীদের বিভাজন করতে হবে,এসএসসিকেই এই বিভাজন করতে হবে।
*বিভাজন করা সম্ভব হলে চাকরি বাতিল অন্যায্য
*অযোগ্য চারিপ্রার্থীদের বেতন ফেরাতে স্থগিতাদেশ
*যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের মুচলেখা দিতে হবে, অযোগ্য প্রমানে বেতন ফেরত দিতে হবে।
*সিবিআই নিয়োগ চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে চাকরিপ্রার্থীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।
*পরবর্তী শুনানি ১৬ই জুলাই
দিনভর চূড়ান্ত নাটকের পর স্থগিতাদেশ পেয়ে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি চাকরিহারা ও রাজ্যের শাসকদলও। তৃণমূলের দাবি, ন্যায়-বিচার হয়েছে। যদিও এখনও মাথার উপর থেকে বিপদের খাড়া নামে নি এসএসসির। কারণ সুপ্রিম রায়ে এসএসসিকেই যোগ্য-অযোগ্যদের বিভাজন করতে হবে। যদিও এই রায়ে একপ্রকার পাল্টা চাপে পড়ল সরকার। কারণ এসএসসি ঘুরিয়ে কান ধরে আজ মেনে নিলো দুর্নীতি হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগে সিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য সঠিক। এবং সেই তথ্য অনুযায়ী ৮৩২৪ জনের চাকরি ভুয়ো উপায়ে। যদিও সুপ্রিম অবজারভেশন অনুযায়ী সবার চাকরি বহাল রয়েছে। যোগ্যদের বাছাই করবে এসএসসি। ফলে এসএসস্যার জলে কুমির ডাঙায় বাঘ পরিস্থিতি তা বলাই বাহুল্য।