বাবা সাধন পাণ্ডে ছিলেন বাংলায় কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতির অন্যতম মুখ। বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তাঁর পত্নী সুপ্তি নাকি কন্যা শ্রেয়া, কে পাবেন তৃণমূলের টিকিট, তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বন্দ্ব হয় বলে রা...
বাবা সাধন পাণ্ডে ছিলেন বাংলায় কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতির অন্যতম মুখ। বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তাঁর পত্নী সুপ্তি নাকি কন্যা শ্রেয়া, কে পাবেন তৃণমূলের টিকিট, তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বন্দ্ব হয় বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের দাবি। শেষ অবধি সুপ্তি পাণ্ডেই উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পেয়ে জয়ী হন ঠিকই। কিন্তু, ছাব্বিশের বিধানসভায় মা নন, মেয়েই তৃণমূলের টিকিট পান। এবং, নির্বাচনী ময়দানে তাঁর বাবারই মতো বর্ষীয়ান কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতিক ও সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাপস রায়ের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে।
জয় নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী? অল্পদিনের মধ্যেই বঙ্গরাজনীতির আদব-কায়দা ও শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ রপ্ত করে ফেলেছেন যিনি, তাঁর হাতে এমন লোপ্পা ক্যাচ তুলে দেননি সিএন-এর প্রতিনিধি। শ্রেয়াকে তাই প্রশ্ন করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেছেন কাল (গণনার দিন) রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে হালকা ডিজেও বাজবে, কী বলবেন? বল যতই সুইং খেয়ে উইকেটের দিকে আসুক-না কেন, শ্রেয়া কিন্তু সেই বল চালিয়ে খেললেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একেবারেই হালকা কোনও কথা বলেন না। আমার এই কেন্দ্রেই তো তিন-চারটে গান আছে। একদম বাজবে, জোরে, বিশাল জোরে"।
প্রচারের শুরুতে মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন, আজ কি পুজো দিয়েছেন ? শ্রেয়ার সপ্রতিভ উত্তর, "আমি তো পুজো দিয়েই থাকি। আমি খুব রিলিজিয়াস পার্সন। তবে পুজো দিয়ে সেই ছবি আপলোড করি না। পুজোআচ্চা ব্যাপারটা খুব পার্সোনাল"। কাকে ঠুকলেন, তা বুঝতে অসুবিধা হল না।
বিজেপি তো আজ পুজো দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে? এবার উত্তর, "হ্যাঁ, তেমনই তো শুনলাম। আসলে পুজো দেওয়া, ধুপ দেওয়া, আমাদের কাছে যা ওয়ে অব লাইফ। ওদের কাছে সেটাই কর্মসূচি। ঠাকুর প্রণাম করাও যে কর্মসূচি হতে পারে, সো ফানি!"
প্রার্থী শ্রেয়া পাণ্ডে নাকি (হবু) বিধায়ক শ্রেয়া পাণ্ডে, শুনতে কোনটা ভালো লাগে? একেবারে পরিণত রাজনীতিকের মতোই শ্রেয়ার উত্তর, "কর্মী শ্রেয়া পাণ্ডে। যুব তৃণমূল কংগ্রেস করা শ্রেয়া পাণ্ডে। যুব তৃণমূল কংগ্রেস যাঁরা করেন, তাঁদের যে কী উদ্দীপনা! আমরা একদিন ইসি (নির্বাচন কমিশন)-এর অফিসে ছিলাম। আমি যেহেতু প্রার্থী হয়েছি, তাই আমাকে বলা হল, তুমি সোজা গিয়ে ডানদিকের চেয়ারে বসে পড়। ওখানে এমএলএ-রা বসে আছেন। আমি ওইদিকের সিটে গিয়ে বসতেই পারলাম না"।
যুব তৃণমূলের এমনই জোশ! নির্লোভ জোশ! বুঝিয়ে দিলেন শ্রেয়া পাণ্ডে।