বহরমপুরে এই নিয়ে তিনদিন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর প্রচারে তৃণমূল কার্যত পায়ে পা-লাগিয়ে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তাতে কী? যে-ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে ভোটারদের ...
বহরমপুরে এই নিয়ে তিনদিন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর প্রচারে তৃণমূল কার্যত পায়ে পা-লাগিয়ে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তাতে কী? যে-ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বাড়ির দোরগোড়ায় গিয়ে ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভাইরাল হন, এদিন সেখানেই দাপিয়ে প্রচার করলেন 'বহরমপুরের রবিনহুড'। এবং দাবি করলেন, "এবার অবাধ ভোট করিয়েই ছাড়বো"।
বহরমপুরের ঘটনায় পর্যবেক্ষকরাও অনেকে বিস্মিত। প্রতিপক্ষের প্রার্থী প্রচারে গেলেই তৃণমূল প্রার্থীর দলবল কেন নিয়মিত সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ন্যূনতম সৌজন্যও কি আর অবশিষ্ট নেই বাংলায়? যদিও, তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল চক্রবর্তীকে পাত্তা না-দিয়ে অধীর চৌধুরী ইতিমধ্যেই মন্তব্য করেছেন, "অনেক বড় মস্তানকে রিপেয়ার করে সাইজ করে দিয়েছি"।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, চব্বিশের লোকসভায় হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে মেরুকরণের রাজনীতিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে অধীর চৌধুরীকে পরাজিত করেছিল তৃণমূল। কিন্তু ধর্মের কল বাতালে নড়ে, ভরতপুর-রেজিনগরেও নড়ে। তাই, হুমায়ুন নিজের দল তৈরি করে ওই মন্তব্যের জন্য হিন্দুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে দাবি প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি যা করেছিলেন তা 'দলনেত্রী'র নির্দেশেই করেছিলেন।
এমতাবস্থায়, ছাব্বিশের বিধানসভায় মেরুকরণের রসায়ন একেবারে উল্টেপাল্টে গিয়েছে। তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টি আর আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিম জোট বেঁধেছে । পাশের জেলা মালদহেও তৃণমূলের অনুকূলে হাওয়া বইছে না সেভাবে। এমতাবস্থায়, বহরমপুর থেকে অধীর চৌধুরীকে পরাস্ত করতে যাবতীয় রাজনৈতিক শিষ্টাচার জলাঞ্জলি দেবেন নাড়ুগোপাল, তাতে আর আশ্চর্য কী! তবে জেলায় কংগ্রেস কর্মীদের একটাই প্রশ্ন, বহরমপুরে কি হারের আগেই হার স্বীকার করে নিচ্ছে তৃণমূল?