মালদহের চাঁচল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের যে সামান্য দূরত্বটুকু ছিল, এদিন তা দূর করে দিল দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল। চাঁচলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও গঙ্গারামপুরে বিজেপির সর্বভারতীয়...
মালদহের চাঁচল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের যে সামান্য দূরত্বটুকু ছিল, এদিন তা দূর করে দিল দুই যুযুধান রাজনৈতিক দল। চাঁচলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও গঙ্গারামপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সেনপতি অমিত শাহ তৃণমূলকে আক্রমণ করতে বেছে নিলেন হুবহু একই শব্দ!
গঙ্গারামপুর থেকে অমিত শাহ
"বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ চলছে। বালির উপর ট্যাক্স, ইট-সিমেন্টের উপর ট্যাক্স নেয় সিন্ডিকেটের লোকেরা। সিন্ডিকেটের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের উল্টো করে সিধে করে দেবো ক্ষমতায় এলেই। বাংলাজুড়ে সিন্ডিকেটরাজ খতম হবে। দিদির ভ্রষ্টাচার দূর হবে"।
চাঁচল থেকে রাহুল গান্ধী
"সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারী অর্থ ফেরত পাননি, রোজভ্যালি চিটফান্ডে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারী টাকা ফেরত পাননি। কয়লা, বেআইনি খাদান। ট্রান্সপোর্ট থেকে গুন্ডাট্যাক্স কালেক্ট করা হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়। এছাড়া হিংসা, মারপিট, মিথ্যে কথা, কংগ্রেস কর্মীদে উপর আক্রমণ তো রয়েইছে"।
এখানেই শেষ নয়।
"বাংলায় বিজেপির পথ প্রশস্ত করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও দেয়নি। এসআইআর-এর মাধ্যমে লোকতন্ত্রকে আক্রমণ করছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসও বাংলার জন্য কাজ করছে না। মোদী ভ্রষ্ট আর তৃণমূলও ভ্রষ্টাচারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বাংলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৫ লাখ মানুষকে রোজগার সুনিশ্চিত করবেন। কতজনকে রোজগার দিয়েছেন তিনি? কত কোম্পানি বন্ধ হয়েছে? কত শিল্প তাদের কারখানা গুটিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে? ৫ লক্ষ বেকারকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল, এখন দেখা যাচ্ছে ৮৪ লক্ষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলা একসময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব ছিল। প্রথমে কমিউনিস্ট, আর তারপর মমতাজি বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন"।
৩৪ বছর ধরে কমিউনিস্টরা, তারপর তৃণমূল
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাংলায় ভোট প্রচারে এসে নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ-ও ঠিক একই কথা বলে চলেছেন, ৩৪ বছর ধরে কমিউনিস্ট শাসন, তারপর ১৫ বছর তৃণমূলের শাসন রাজ্যে শিল্পকে শেষ করে দিয়েছে।
যদিও, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার বামশাসনেরও আগে চলে গিয়ে স্বাধীনতার পর কংগ্রেসের শাসনকালকেও ধরছেন বাংলার 'অবনতি'র জন্য। যে-টাইমলাইনে রয়েছে বিধান রায়ের শাসনকালও।