তবে এই তিন দেশকে সরাসরি যুদ্ধের “বিজয়ী” বলা একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন। প্রতিষ্ঠিত তথ্য বরং দেখাচ্ছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি তাদের কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
কাতারের ভূমিকা সবচেয়ে স্পষ্ট। দোহা দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা এবং বিভিন্ন প্রস্তাব আদান-প্রদান করছে। ২১ সেপ্টেম্বর কাতার জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং মধ্যস্থতাকারীরা বিভিন্ন রাজধানীতে যাতায়াত করছেন।
ইরানও তাদের আলোচনার শর্ত কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুদ্ধের অবসান, ইরানের হিমায়িত অর্থ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ শর্তগুলো কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদ একদিকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে তার প্রতিরক্ষা সম্পর্কও শক্তিশালী হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতার যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কমানোর উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর পাকিস্তান তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে হুথি হামলা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এখানেই পাকিস্তানের জন্য একটি জটিল ভারসাম্যের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি—দুই দিকই ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্কের অবস্থান আবার কিছুটা আলাদা। ন্যাটোর সদস্য এবং ইরানের প্রতিবেশী হিসেবে আঙ্কারা সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তুরস্কের ভূমিকা বাড়ছে। সাম্প্রতিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের ওপর হামলাকে সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং তুরস্ক সৌদি আরবকে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
এই তিন দেশের অবস্থান থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার: ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী ও নিরাপত্তা অংশীদারদের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে তাদের ভূমিকার ফলাফলকে এখনই স্থায়ী কৌশলগত “লাভ” বা “বিজয়” হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। যুদ্ধের গতিপথ, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং সৌদি-ইরান সম্পর্ক—সবকিছুর ওপর তাদের ভবিষ্যৎ প্রভাব নির্ভর করবে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত সত্য হলো—যুদ্ধ যত বাড়ছে, ততই সরাসরি যুদ্ধরত পক্ষগুলির বাইরে থাকা কূটনৈতিক চ্যানেলগুলির মূল্য বাড়ছে। আর সেই চ্যানেলগুলির মধ্যে কাতার ও পাকিস্তান বিশেষভাবে সক্রিয়, আর তুরস্ক আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনীতিতে নিজের ভূমিকা বাড়াচ্ছে।
#IranWar #USIran #Qatar #Pakistan #Turkey #MiddleEast #Diplomacy #Geopolitics