Calcutta Television Network

হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা থেকে ট্রাম্প কেন সরে এলেন?

হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বাড়াচ্ছে, ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করেছে এবং বাব-এল-মান্দেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছাকাছি নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সাহায্য চেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার পরিকল্পনা করেও শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যায়।

এর প্রধান কারণ বলে মনে হচ্ছে আরেকটি যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানকে কেন্দ্র করে একটি বড় সামরিক সংঘাতে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনে সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান শুরু হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, হামলার জবাবে হুথিরা লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের জাহাজ চলাচলকে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। ফলে ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও একটি আঞ্চলিক সংকট তৈরি হতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়াশিংটন এবং হুথিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি চ্যানেল এখনও রয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ওমানে মার্কিন কর্মকর্তারা হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলি জানিয়েছে যে হুথিরা মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য না করার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে।

হুথিদের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা পরে প্রকাশ্যেও বলেন, তারা মার্কিন জাহাজে হামলা করতে চায় না। তবে সৌদি-সম্পর্কিত জাহাজ তাদের লক্ষ্য হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে। অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সামনে একটি সীমিত হলেও কার্যকর বোঝাপড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—আমেরিকা সরাসরি হুথিদের আক্রমণ করবে না, আর হুথিরাও মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্য করবে না।

এখানে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ বারবার ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা চাইলেও ট্রাম্প এখনও সরাসরি যুদ্ধে নামেননি। এমনকি ২১ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে সামরিক সহায়তা চাইলেও ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সামরিক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেননি।

এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়। বরং ট্রাম্পের হিসাবটি সম্ভবত হচ্ছে—সৌদিকে সমর্থন করা এক বিষয়, আর সৌদির হয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বাব-এল-মান্দেব। এই জলপথ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন রুটগুলির একটি। সেখানে মার্কিন হামলা শুরু হলে হুথিরা পাল্টা ব্যবস্থা নিলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

সুতরাং ট্রাম্পের পিছিয়ে আসাকে আপাতত কৌশলগত সংযম হিসেবে দেখা যায়। ইরান যুদ্ধ যখন এখনও শেষ হয়নি, তখন ওয়াশিংটন সম্ভবত একই সঙ্গে ইরান, হুথি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ না বাড়িয়ে নিজের সামরিক ও কূটনৈতিক বিকল্পগুলি খোলা রাখতে চাইছে।

এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য আরও বাড়ে একটি কারণে—হুথিদের সঙ্গে যোগাযোগের দরজা এখনও বন্ধ হয়নি। সামরিক হামলার পরিবর্তে সেই যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এটি স্থায়ী নীতি কিনা, তা এখনও পরিষ্কার নয়। হুথিরা যদি মার্কিন জাহাজ বা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে হামলা শুরু করে, অথবা বাব-এল-মান্দেবের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে ওয়াশিংটনের হিসাব আবার বদলাতে পারে।

#Trump #Houthis #Yemen #SaudiArabia #IranWar #RedSea #BabElMandeb

শেয়ার করুন