২০২১ সালে রাশিয়া বিশ্বকে চমকে দিয়ে উন্মোচন করেছিল তাদের নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্প – সু‑৭৫ ‘চেকমেট’। এটি ছিল এক সাহসী ঘোষণা: কম খরচে তৈরি একটি এক ইঞ্জিনের স্টেলথ ফাইটার, যা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আমেরিকার বহুল আলোচিত এফ‑৩৫ এর সঙ্গে। রাশিয়ার দাবি ছিল, মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে এই বিমান বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
মস্কো এই প্রকল্পকে মূলত রপ্তানি বাজারের জন্য সাজিয়েছিল। উন্নত দেশগুলির মতো ব্যয়বহুল এফ‑৩৫ কেনার সামর্থ্য নেই এমন দেশগুলিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া বলেছিল, সু‑৭৫ হবে একটি সাশ্রয়ী বিকল্প। প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল—
ইন্টারনাল অস্ত্র বহন ব্যবস্থা,
সর্বোচ্চ Mach 1.8 গতি,
দীর্ঘ পাল্লার যুদ্ধক্ষমতা,
এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংযোজন বা মানববিহীন অপারেশন করার সম্ভাবনা।
এই বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরে রাশিয়া বোঝাতে চেয়েছিল যে, কম খরচে হলেও এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান।
তবে বিশ্লেষকরা শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২১ সালের MAKS এয়ার শোতে প্রদর্শিত বিমানটি ছিল মূলত একটি স্ট্যাটিক মক‑আপ, উড়তে সক্ষম কোনও প্রোটোটাইপ নয়। অর্থাৎ, রাশিয়ার দাবি করা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তখনও পরীক্ষিত ছিল না। অর্থায়ন, উৎপাদন ক্ষমতা এবং উন্নয়ন সময়সূচি নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই গিয়েছিল।
সু‑৭৫ প্রকল্পকে রাশিয়া শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং একটি কৌশলগত প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মাঝেও তারা দেখাতে চাইছে যে, বিশ্ববাজারে তারা এখনও প্রতিযোগিতায় আছে। এফ‑৩৫ এর মতো ব্যয়বহুল বিমানের বিকল্প হিসেবে সু‑৭৫কে তুলে ধরে রাশিয়া মূলত তাদের রপ্তানি বাজার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
আজও সু‑৭৫ প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোনও নিশ্চিত ফ্লাইট টেস্টের খবর নেই, উৎপাদন সময়সূচিও অস্পষ্ট। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এটি আপাতত একটি বাজারজাতকরণ কৌশল—যতক্ষণ না বাস্তব প্রোটোটাইপ আকাশে উড়ে প্রমাণ দেয়।