পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলি নিরাপত্তা বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসলামাবাদ এবার কূটনৈতিকভাবে ইরানের দিকে হাত বাড়িয়েছে।
বেলুচিস্তান প্রদেশ পাকিস্তান–ইরান সীমান্তে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে বিদ্রোহী কার্যকলাপ সীমান্ত পেরিয়ে দুই দেশেই ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ইসলামাবাদ মনে করছে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও বিদ্রোহ দমন করতে হলে তেহরানের সহযোগিতা অপরিহার্য। ইরানও নিজ দেশে বেলুচ বিদ্রোহীদের কার্যকলাপে ভুগছে। তাই দুই দেশই এই সমস্যাকে যৌথভাবে মোকাবিলা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের চলাচল রোধ করা। ইরানও সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও উভয় পক্ষই সার্বভৌমত্ব নিয়ে সতর্ক। সীমান্তে যৌথ অভিযান বা নজরদারি নিয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর পাকিস্তানকে একদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। ফলে ইসলামাবাদের জন্য এটি একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের খেলা।
বেলুচিস্তান শুধু নিরাপত্তার দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে রয়েছে চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্রোহ ও সহিংসতা এই প্রকল্পকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই পাকিস্তানের জন্য ইরানের সহযোগিতা কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, বরং বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত।