ছোটো বেলায় আমরা কম বেশি সবাই যে জিনিসটা দিয়ে খেলেছি, সেটা পতুল l সংস্কৃত শব্দ "পুট্টুলিকা বা পুত্তলিকা" থেকে আসা শব্দটি 'পুট্টুলি, অপভ্ৰংশ বাংলায় হয় পুতুল l মজার ব্যাপার, খেলার জিনিস হওয়ার আগে, পুতুলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার ছিল কালাজাদু বিদ্যায় l ফলে পুতুল সেই প্রাচীনকাল থেকে আমাদের সংস্কৃতির সাথে জড়িত l দেশ-বিদেশেও পুতুল নিয়ে নানা ভৌতিক কিংবদন্তী আছে, যার ব্যাখ্যা আজও বিজ্ঞান দিতে পারেনি। এরকমই এক পুতুল রয়েছে এশিয়ার সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ইওয়ামিজাওয়া শহরের মান্নেনজি (Mannenji) মন্দিরে । কেউ বলে এই পুতুলের প্রাণ আছে, কেউ বলে সময়ের সাথে সাথে এর চুল লম্বা হয়, কারোর কাছে এই পুতুল অভিশপ্ত। একটি ৪০ সেন্টিমিটারের, গায়ে জড়ানো ঐতিহ্যবাহী কিমোনো, আপাত সাধারন পুতুলটি বাইরে থেকে দেখলে আর পাঁচটা সাধারণ পুতুলের মতোই মনে হয়, কিন্তু প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে একে ঘিরে রেখেছে হাজার প্রশ্ন ও রহস্য l
গল্পের শুরু ১৯১৮ সালে। হোক্কাইডো তে বাস করত ওকিকু ও তার পরিবার l দু বছরের ওকিকু ছিল প্রচন্ড চঞ্চল l একবার এক মেলা থেকে, তার দাদা ইকিচি সুজুকি, ওকিকুর জন্য একটি পুতুল নিয়ে আসে l উচ্চতায় ৪০ সেন্টিমিটার, গায়ে কিমোনো, ছোটো করে কাটা চুল, ঠিক কোনো জাপানি বাচ্চা মেয়ে l অল্প সময়েই এই পুতুলটি হয়ে উঠলো ওকিকুর প্রিয় খেলনা l উঠতে বসতে, খেতে শুতে, ওকিকু ওই পুতুলকে সঙ্গে নিয়েই চলত l ওকিকুর দাদা, বাবা-মা-ও খুব খুশি হলেন মেয়ে কে দেখে l কিন্তু সুখের সময় বেশিদিন রইল না, জ্বরে পরলো ওকিকু l শেষে অতিরিক্ত শরীর খারাপ সহ্য করতে না পেরে মারা যায় ২ বছরের বাচ্চাটি l প্রথমে পুতুলটি ওকিকুর কফিনে দিয়ে দেওয়ার কথা ভাবলেও, পরে পরিবারের লোক পুতুলটিকে তাদের সাথেই রেখে দেয় l আর বিপত্তি হলো তাতেই l কিছু দিন পর সুজুকি খেয়াল করলেন, পুতুলটির চুল বড় হচ্ছে অদ্ভুত ভাবে, সঙ্গে তাঁরা দেখতে লাগলেন ওকিকুর স্বপ্ন, যেন বাচ্চা মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে, আর তাদের ডাকছে l অনেক সময় তাঁরা দেখতেন ওকিকু হেঁটে বেড়াচ্ছে সারা বাড়িতে l আর এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, এই পুতুল কে এ বাড়িতে রাখা যাবে না l অনিবার্য কারণে সুজিকি পরিবার কে হোক্কাইডো ছাড়তে হয়, আর তাঁরা পুতুলটিকে দিয়ে দেন স্থানীয় এক মন্দিরে।
মন্দিরের লোকজন খেয়াল করেন, পুতুলটির চুল আগের মতোই ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে l প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও পরে দেখা যায় পুতুলটির চুল আরও বড় হয়ে গেছে l পুরোহিতরা পুতুলটির চুল কেটে দিলেও, আবার চুল বড় হতে থাকে l তার পর থেকে দুমাস অন্তর কেটে দেওয়া হয় পুতুলটির চুল। এর পরে আরও বেশ কিছু ঘটনা পুতুলটিকে ঘিরে ঘটে যায় l সময়ের সাথে সাথে পুতুলটির মুখের পরিবর্তন হতে শুরু করে, এখন নাকি ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে সাদা দাঁতের অংশ ও দেখতে পাওয়া যায় l
অনেকেই বিশ্বাস করেন ওকিকুর আত্মা তার এই প্রিয় পুতুলটির সাথে রয়ে গেছে l ওকিকু আমাদের আধ্যাত্মিক ও অলৌকিক জগতের রহস্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়। তবে এই রহস্যেই ব্যখ্যা বিজ্ঞানও আজ অব্দি করতে পারেনি l আর এই রহস্যের টানে, হাজার হাজার পর্যটক এই পুতুলটিকে স্বচক্ষে দেখতে যায় l আপনাদের কি মনে হয়? এর পিছনে রয়েছে কোনও ভৌতিক-অলৌকিক কারণ নাকি নিছকই গল্প l জাপান গেলে একবার দেখে আসবেন কিন্তু পুতুলটা l