সুস্মৃতি দাস : কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবীর সঙ্গে যখন বাবা দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুরের বিবাহ হয়, তখন দেবেন্দ্রনাথের বয়স সতেরো এবং সারদা দেবীর আনুমানিক আট বা তার কম। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী এই বিবাহের বিবরণ দিয়ে বলেছেন যে, 'তাঁর ( সারদা দেবীর )এক কাকা কলকাতায় শুনেছিলেন যে, আমার শ্বশুর মশাই এর জন্য সুন্দরী মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। তিনি দেশে এসে আমার শাশুড়িকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দিলেন। তখন তাঁর মা বাড়িতে ছিলেন না। গঙ্গা নাইতে গিয়েছিলেন। বাড়ি এসে, মেয়েকে তাঁর দেওর না বলে কয়ে নিয়ে গেছেন শুনে তিনি উঠোনের এক গাছ তলায় গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে লাগলেন। তারপর সেখানে পরে কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে মারা গেলেন।
সারদা দেবী যখন বধূ হয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে প্রবেশ করলেন, তখন দ্বারকানাথ ঠাকুরের সৌভাগ্য সূর্য মধ্য গগনে। বলা যায় তাঁর বিবাহে যথেষ্ট ধুমধাম হয়েছিল এবং দাস দাসী পরিবৃত খুব জমকালো পরিবেশেই তাঁর প্রথম যৌবন অতিবাহিত হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্য রূপবান স্বামী-পুত্রাদি নিয়ে সারদা দেবীর ভোগাকাঙ্খা যে সময় পরিপূর্ণতায় পৌঁছতে পারতো, সেই সময়েই দেবেন্দ্রনাথের জীবনে এক বিষয় বৈরাগ্যের উদয় হলো। যা বধূ সারদা সুন্দরী দেবীর অনেকখানি হৃদয় বেদনার কারণ হয়েছিল। পরবর্তীতে কি হলো জানাবো আগামী পর্বে ।