সুস্মৃতি দাস: ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ বাংলার সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর ভ্রাতা গিরীন্দ্রনাথ সহ ২১ জন কে নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করেন। এই ঘটনাটি দেবেন্দ্রনাথের জীবনে যেমন একটি প্রধান দিক নির্দেশ করেছিল, তেমনি দিন টিকে বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ করে তুলেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ব্রাহ্ম ধর্ম গ্রহণ করে দেবেন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং দু' বছরের মধ্যে ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০০। এই উপলক্ষে দেবেন্দ্রনাথ ১৮৪৫ সালের ২০ ডিসেম্বর গেরিটির (গৌরিহাটির) বাগানে এক মহোৎসবের আয়োজন করেন।
বলা যায়, বাংলার সামাজিক ইতিহাসে এই ঘটনা এক বিরাট প্রভাব ফেলেছিলো। আলেকজান্ডার ডাফ সহ খ্রিস্টান মিশনারিরা যখন খ্রিস্টধর্ম প্রচার ও হিন্দু ধর্মের ত্রুটি বিচ্যুতির আলোচনায় সর্ব শক্তি নিয়োগ করছিলেন এবং কৃষ্ণমোহন বন্দোপাধ্যায়, মহেশ চন্দ্র ঘোষ, মধুসূদন দত্ত প্রভৃতি উচ্চ শিক্ষিত যুবকেরা যখন খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করছিলেন, সেই সময় দেবেন্দ্রনাথ তত্ত্ববোধিনী সভা ও তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা কে আশ্রয় করে এই স্রোতের গতিরোধ করেন। প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দু হিতার্থী বিদ্যালয়। ভূদেব মুখোপাধ্যায় এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও রাজনারায়ণ বসু পরিদর্শক নিযুক্ত হন। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিদ্যালয়ের অন্যতম সম্পাদক।
নানা কারণে এই বিদ্যালয় দীর্ঘায়িত না হলেও এটি সেই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলো, যে আন্দোলন রক্ষণশীল, সংস্কারপন্থী ও নব্যপন্থী হিন্দু সমাজের তিনটি শাখাকে একসূত্রে বেঁধে যে একটি বড়ো কাজ করেছিল, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর পরের ঘটনা কি হলো সেটি জানাবো আগামী পর্বে