সুস্মৃতি দাস : ১৮৫৮ সালে দেশভ্রমন করে ফিরে আসার পর দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কেশব চন্দ্র সেনের। কেশব চন্দ্র সেন ছিলেন দেবেন্দ্রনাথের দ্বিতীয় পুত্র সত্যেন্দ্র নাথের সহপাঠী। সেই সূত্রেই কেশব চন্দ্র সেনের ব্রাহ্ম সমাজে প্রবেশ। কেশব চন্দ্রের উদ্যোগে দেবেন্দ্রনাথ ১৮৫৯ সালে 'ব্রহ্ম বিদ্যালয়' স্থাপন করেন এবং সেখানে তিনি নিজে বাংলায় ও কেশবচন্দ্র ইংরেজি তে ধর্মাপদেশ দিতেন।
পরবর্তী তে ব্রাহ্ম সমাজে নতুন প্রাণের জোয়ার এলো। পূর্বে দেবেন্দ্রনাথের কাছে ব্রাহ্ম ধর্ম ছিল তত্ব অনুসন্ধানের অন্যতম মাধ্যম। কেশবচন্দ্র তার সঙ্গে প্রচার যুক্ত করে একে একটি সাম্প্রদায়িক ধর্মের রূপ দিলেন।ব্রাহ্মদের সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অনুষ্ঠান পদ্ধতি প্রণীত হলো। এই পদ্ধতি অনুসারেই দেবেন্দ্রনাথ ১৮৬১ সালের ২৬ শে জুলাই তাঁর দ্বিতীয় কন্যা সুকুমারীর বিবাহ দিলেন।
দেবেন্দ্রনাথ সমাজ সংস্কার অবশ্যই চাইতেন। কিন্তু তা প্রচলিত প্রথা গুলি বর্জন করে নয়, যুগ উপযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে। তাই বিধবা-বিবাহ, অসবর্ণ-বিবাহ,উপবীত ত্যাগ ইত্যাদি ব্যাপার তিনি সমর্থন করলেও মনে প্রাণে স্বীকার করে নিতে পারেননি। আর সেই কারণেই কেশবচন্দ্র সহ কলিকাতা ব্রাহ্ম সমাজের নাব্যপন্থী সভ্যরা যখন এই গুলোকেই প্রাধান্য দিতে শুরু করলেন, তখন তিনি তা মানতে পারলেন না। ফলে কেশব চন্দ্র ও তাঁর অনুগামীরা ১৮৬৬ সালে ' ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম সমাজ' স্থাপন করলেন। এরপর থেকে আমরা দেখতে পাই ধীরে ধীরে দেবেন্দ্রনাথ সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে অবসর জীবন যাপন করতে থাকেন। অবশেষে ১৯০৫ সালের ১৯ শে জানুয়ারি বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে ৮৮ বছর বয়সে তিনি দেহত্যাগ করেন।