সুস্মৃতি দাস : সারদাসুন্দরী দেবীর যখন বিবাহ হয় তখন তাঁর শাশুড়ি দিগম্বরী দেবী ও দিদি শাশুড়ি অলোকা দেবী দুজনেই জীবিত ছিলেন। তাঁরা ধর্মপ্রাণ মহিলা ছিলেন। সৌদামিনী দেবী লিখছেন যে, ' মা আমার সতীসাদ্ধী পতি পরায়না ছিলেন। পিতা সর্বদাই বিদেশে কাটাতেন। এই কারণে মা সর্বদাই চিন্তিত হইয়া থাকিতেন। পূজার সময় কোনো মতেই পিতা বাড়িতে থাকিতেন না। এই জন্য পূজার উৎসবে যে যাত্রা গান, আমোদ যতকিছু হইতো তাহাতে আর সকলে মাতিয়া থাকিতেন কিন্তু মা তাহার মধ্যে কিছুতেই যোগ দিতে পারিতেন না। তখন নির্জন ঘরে তিনি একলা বসিয়া থাকিতেন। কাকিমারা আসিয়া তাঁহাকে কত সাধ্য সাধন করিতেন কিন্তু বাহির হইতেন না।
স্বামীর জন্য উদ্বেগ ছিল তাঁর চির সঙ্গী। ১৮৫৭ সালে দেবেন্দ্রনাথ যখন সিমলায়, সেইসময় উত্তর ভারতে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয়। সৌদামিনী দেবী লিখছেন যে,'একটা গুজব উঠিল সিপাহীরা তাঁহাকে হত্যা করিয়াছে। একে অনেকদিন চিঠিপত্র লেখেন নাই, তাহার উপর এই গুজব --বাড়ির সকলে ভাবনায় অতিভুত হইলো। মা তো আহার নিদ্রা ত্যাগ করিয়া কান্নাকাটি করিতে লাগিলেন। সেইজন্য স্বামী যখন বাড়ি থাকতেন তখন তাঁর সেবার দিকে তিনি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতেন।
এ বিষয়ে জ্ঞানদানন্দিনী দেবী বলছেন, আমার শাশুড়ির একটা স্থূল শরীর ছিল। তাই বেশি নড়াচড়া করতে পারতেন না। কেবল বাবামশায় যখন থাকতেন তখন মা রান্নাঘরে নিজে গিয়ে বসতেন। তিনি আরো বলেন যে, ''আমার মনে পড়ে বাবামশায় যখন বাড়ি থাকতেন আমার শাশুড়ি কে একটু রাত করে ডেকে পাঠাতেন, ছেলেরা সব শুতে গেলে। আর মা একখানি ধোয়া শাড়ী পড়তেন। তারপর একটু আতর মাখতেন। এই ছিল তাঁর রাতের সাজ।'' এই মনোযোগ ও প্রসাধনের বর্ণণা তাঁর আত্মনিবেদনের প্রকৃতিকে চিনিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। আগামী পর্বে আপনাদের জানাবো সারদা সুন্দরী দেবীর শিক্ষা ও সংস্কার এর কথা।