সূর্যোপাসনার অন্যতম প্রাচীন উৎসব হল ছটপুজো। উত্তর ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশে এই পুজো আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। তবে আজ আর ছট শুধু আঞ্চলিক উৎসব নয় - এটি সূর্যদেব ও প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানানোর এক মহাপর্ব।
এই বছর ছটপুজো পালিত হবে ২৭ অক্টোবর ২০২৫, সোমবার। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সূর্যদেব এবং 'ছটি মাই' (ছটী মাতা)-এর উদ্দেশে ব্রত পালন করা হয়।
বিশেষত্ব হল - ছটপুজোয় কোনও মূর্তি বা প্রতিমা পুজো করা হয় না। প্রকৃত সূর্য ও তার জ্যোতিরূপকেই আরাধনা করা হয়। সংসারের মঙ্গল, সন্তানসুখ ও পারিবারিক সমৃদ্ধির জন্য নারী-পুরুষ উভয়েই এই ব্রত পালন করেন।
পুজোর অন্যতম কঠিন দিক হল টানা ৩৬ ঘণ্টা নির্জলা উপবাস। ভক্তরা প্রথম দিনে সূর্যাস্তের সময় এবং দ্বিতীয় দিনে সূর্যোদয়ের সময় নদী বা জলাশয়ে দাঁড়িয়ে সূর্যদেবকে জল ও আরঘ্য অর্পণ করেন।
সূর্যদেবের আশীর্বাদ পেতে পাঁচটি বিশেষ টোটকা-
ছটপুজোর দু’দিন - সন্ধ্যা ও প্রভাতে সূর্যদেবকে দুধ ও গঙ্গাজলের মিশ্রণ অর্পণ করুন। এটি আর্থিক ও পারিবারিক সৌভাগ্য বাড়ায় বলে বিশ্বাস। তবে এই সময়ে অবশ্যই নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হবে।
উপবাসীদের হাতে কলা, বাতাবি লেবু, আখ, নারকেল ও পানিফল দিন। এই ফলগুলি সূর্যদেবের আরাধনায় শুভ বলে গণ্য।
মাটির উনুনে নিজ হাতে নৈবেদ্য (থে’কা) তৈরি করে সূর্যদেবকে অর্পণ করলে ব্রতের ফল বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যদি গ্যাসে রান্না করেন, তবে বাসন অবশ্যই আমিষমুক্ত ও পবিত্র রাখতে হবে।
এটি এক প্রাচীন আচার, যা দারিদ্র্য ও মানসিক কষ্ট দূর করে বলে মনে করা হয়। গঙ্গায় গোটা নারকেল, কিছু গম ও সামান্য গুড় ভাসিয়ে দিন।
ছটের সন্ধ্যায় অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে মনোবাসনা জানালে সূর্যদেবের কৃপায় সেই কামনা পূরণ হয় বলে বিশ্বাস।
ছটপুজো কেবল সূর্যের আরাধনা নয়, এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক গভীর বন্ধনের প্রতীক। এই দিনে শরীর, মন ও আত্মা একসঙ্গে পবিত্র হয়- আর তার ফলেই সূর্যদেবের আশীর্বাদে জীবনে আসে আলোক ও সমৃদ্ধি।