জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, জন্ম ছকে দুর্বল রবি পুরুষ এবং নারী উভয়ের উপরই গভীর প্রভাব ফেলে, তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এর ভিন্ন বা অতিরিক্ত প্রভাব দেখা যায়। রবিকে আত্মা, আত্মবিশ্বাস, মান-সম্মান এবং পিতৃকারক গ্রহ বলা হয়। আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপট ও পারিবারিক পরিকাঠামোর কারণে মেয়েদের বা নারীদের জীবনে এর গভীর প্রভাব বিস্তার করে।
দুর্বল রবির কারণে মেয়েদের জীবনে সাধারণত যে বিশেষ প্রভাব গুলো বিস্তার করে তা আলোচনা করা হলো-
১) দুর্বল রবির কারণে মেয়েদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের চরম অভাব দেখা দিতে পারে। নিজের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা লোক সম্মুখে আসতে বা নেতৃত্ব দিতে ভয় পান।
২) যেকোনো ছোটখাটো বিষয়েও অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয় এবং নিজে কোনো শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়।
৩) রবির অবস্থান দুর্বল হলে পিতার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয় অথবা পিতার শারীরিক অসুস্থতা বা কষ্ট বৃদ্ধি পায়।
৪) মেয়েদের জন্ম ছকে রবি যদি সপ্তম ভাবের সাথে যুক্ত হয়ে দুর্বল হয়, তবে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে মান-সম্মান পেতে সমস্যা হয়। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সাথে ভুল বোঝাবুঝি এবং আধিপত্য বিস্তারের লড়াই তৈরি হয়।
৫) কর্ম জীবী নারীরা কর্ম ক্ষেত্রে প্রচুর পরিশ্রম করলেও তার সঠিক স্বীকৃতি বা পদোন্নতি সহজে হতে চায় না।
৬) সরকারি চাকরি বা উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক চাকরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি লেগেই থাকে।
৭) রবির কারণে হৃদরোগ, চোখের সমস্যা, মাথা ব্যথা, হাড়ের দুর্বলতা, হজমের সমস্যা, এবং ক্যালসিয়ামের অভাব বা চোখের জ্যোতি কমে যাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।
৮) অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, শরীরে এনার্জির অভাব এবং হৃদযন্ত্র জনিত নানা জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জ্যোতিষবিদরা সাধারণত দুর্বল রবির প্রভাব কাটানোর জন্য প্রতিদিন সকালে সূর্য প্রণাম করা, তামার পাত্রে জল খাওয়া, পিতা ও গুরু জনদের সম্মান করা এবং অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শে উপযুক্ত রত্ন ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।