ভারতীয় হিন্দু সনাতন ধর্মের শাস্ত্র দেবী পুরাণ অনুসারে,সন্ধি পূজা হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের সবচেয়ে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মহাষ্টমী ও মহানবমী তিথির সন্ধি ক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট—মোট এই ৪৮ মিনিট সময় হলো সন্ধি কালের মুহূর্ত। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পূজা সম্পন্ন করতে হয়। এই পূজায় দেবী দুর্গাকে তাঁর উগ্র ও মহাশক্তিশালী চামুণ্ডা রূপে আরাধনা করা হয়।
দেবী পুরাণে উল্লেখ আছে, দেবী দুর্গা যখন মহিষাসুর বধে তাঁর সাথে যুদ্ধ করছিলেন, তখন মহিষাসুরের সেনাপতি চণ্ড ও মুণ্ড পিছন থেকে দেবীকে আক্রমণ করতে আসে। রণণীতি ভঙ্গ হওয়ায় দেবী ক্রোধে ক্ষিপ্ত হন। দেবীর মুখমণ্ডল নীল হয়ে যায় এবং তিনি তৃতীয় নয়ন উন্মীলিত করে চামুণ্ডারূপ ধারণ করেন। এই চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামের দুই অসুরকে বধ করেন। এই সন্ধি ক্ষণকে স্মরণ করেই এই পূজার আয়োজন করা হয়।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে,চণ্ড ও মুণ্ড নামের অসুর দ্বয়কে নিধন কালে দেবী দুর্গার সারা শরীরে সৃষ্টি হয় ১০৮টি ক্ষত। ক্ষতগুলোর অসহনীয় জ্বালা থেকে মুক্তির জন্য দেবাদিদেব মহাদেব মা দুর্গাকে দেবীদহে স্নান করার পরামর্শ দেন। দেবীদহে দেবীর স্নানের পর একশো সাতটি ক্ষত থেকে সৃষ্টি হয়েছিল একশো সাতটি পদ্মের কিন্তু একটি ক্ষত তখনো অবশিষ্ট ছিল। দেবী দুর্গাকে ১টি ক্ষতের জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে মহাদেব এক ফোঁটা চোখের জল নিক্ষেপ করেছিলেন। তাতেই মিলিয়ে গিয়েছিল দেবীর শরীরের অবশিষ্ট ক্ষতটি। অশ্রুসিক্ত ক্ষতটি হতে যে পদ্মটি জন্ম নিয়েছিল সেটি দেবী দুর্গা নিজে হরণ করেন, কারণ স্বামীর অশ্রুসিক্ত পদ্মফুলটি কেমন করে তিনি চরণে স্থান দেবেন। এই জন্যে দেবীদহের সরবরে থেকে যায় ১০৭ টি পদ্ম ফুল। এই কারণেই ত্রেতাযুগে রাম যখন রাবণ বধে দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন, সন্ধি পূজায় হনুমান দেবীদহ থেকে ১০৭ পদ্ম আনতে পেরেছিলেন। পূজা সম্পন্ন করতে ১টি পদ্মের অভাব পূরণে রামচন্দ্র যখন তার ১টি চোখ নিবেদন করতে উদ্যত হন, তখন মা দুর্গা অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে রামচন্দ্রকে আশীর্বাদ করেন।
এই কারণেই মায়ের আশীর্বাদ লাভ করে সৌভাগ্যের দরজা খুলতে ১টি লাল পদ্ম মায়ের পায়ে নিবেদন করুন,কেন না ১টি মাত্র পদ্ম যা সরাসরি মা গ্রহণ করেন এবং ভক্তকে আশীর্বাদ দেন।