হিন্দু বাঙালীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব হল দুর্গা পূজা। দুর্গা পূজা চলাকালী ধনী গরীব সর্বস্তরের জনগন এই উৎসবে মেতে ওঠার সাথে চেষ্টা করেন সাধ্যমত ভালো মন্দ কিছু খাবার খেতে। ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে ও সনাতন ধর্মের শাস্ত্র মতে দুর্গার পূজা চলাকালীন নির্দিষ্ট কিছু খাবার বর্জন বা এড়িয়ে চলার লোকাচার এবং ধর্মীয় রীতি রয়েছে। মূলত পারিবারিক ঐতিহ্য, আঞ্চলিকতাবাদ এবং উপবাস বা ব্রতের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে এই খাদ্যতালিকা নির্ধারিত হয়েছে। পূজার দিনগুলোতে প্রচলিত বিশ্বাস ও লোকাচার অনুযায়ী মূলত দুই ধরনের খাদ্যেবিধি বা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বলা হয়। বাঙালি হিন্দু সমাজে প্রচলিত লোক বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, পূজার প্রধান পাঁচ দিনে নির্দিষ্ট কিছু শাকসবজি এবং ফল খাওয়া অনুচিত বলে মনে করা হয়ঃ
১) পঞ্চমী তিথিতে বেল খাওয়া নিষেধ করেছেন পন্ডিতেরা,কারণ এই সময় অপরিপক্ক শ্রীফল খেলে বৃহস্পতি গ্রহ খারাপ হয়।
২) ষষ্ঠী তিথি চলাকালে নিমপাতা খাওয়া নিষেধ,নিমপাতা সন্তানের পড়াশোনায় অমঙ্গলের আশঙ্কা থাকে।
৩) সপ্তমীর দিন তাল খাওয়া শুভ নয়,তাল খেলে শনি গ্রহ খারাপ হয় ও পেটের গোলমালে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৪) মহাষ্টমীর দিন নারকেল খাওয়া বারণ, বিশ্বাস করা হয় এদিন নারকেল খেলে রবি গ্রহ অশুভ হয়,ফলে বুদ্ধি বা বিচারবোধ নাশ হয়।
৫) মহানবমী তিথিতে লাউ খাওয়া শাস্ত্রীয় মতে অনুচিত ধরা হয়। তিতা লাউ খেলে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে।
৬) বিজয়া দশমীতে কলমি শাক খাওয়া নিষেধ করা হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে এদিন কলমি শাক খাওয়া অর্থ গো-মাংস ভক্ষণ বা গো-হত্যার মত পাপের সমতুল বলে মনে করা হয়।