আশ্বিনের শারদ প্রাতে শিউলি ফুলের গন্ধে প্রকৃতি যখন ম ম করে, তখন মন ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করে মা দুর্গার আগমন বার্তার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মায়ের আগমনে আমরা ভীষণ খুশী হই,আর চেষ্টা করি মা দুর্গাকেও খুশী করে তাঁর আশীর্বাদ পেতে। জানেন কি, মা দুর্গা সবচেয়ে বেশী খুশী হন কিসে? মা দুর্গাকে খুশি করে ভাগ্য পাল্টাবেন কী করে? আজ জানাব সেই তথ্য।
মা দুর্গা সবচেয়ে বেশি খুশি হন ভক্তের আন্তরিক ভক্তি,শ্রদ্ধা, শুদ্ধ মন এবং প্রেমময় অর্ঘে। সনাতন শাস্ত্র অনুসারে, দেবী মহামায়া বাহ্যিক ঐশ্বর্যের চেয়ে ভক্তের অন্তরের শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠাকেই বেশি প্রাধান্য দেন। তবে শাস্ত্রীয় আচার বিধান এবং ঐতিহ্য অনুসারে কিছু নির্দিষ্ট সামগ্রী আছে,যেমন ফুল, ভোগ প্রসাদ ইত্যাদি শ্রদ্ধাভরে অর্পণ করলে মা দুর্গা দ্রুত প্রসন্ন হন এবং মা ভক্তকে আশীর্বাদ করেন,আর ধীরে ধীরে ভক্তের ভাগ্যের পরিবর্তন আসতে থাকে।
প্রিয় ফুল ও পূজার সামগ্রী, যেমনঃ
১) দেবী দুর্গার সবচেয়ে প্রিয় ফুল হলো লাল জবা। জবা ফুলকে শক্তির প্রতীক মনে করা হয়।
২) দুর্গা পূজায়, বিশেষ করে সন্ধিপূজায় দেবীকে ১০৮টি নীল বা লাল পদ্ম নিবেদন করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
৩) দেবীকে লাল চুনরি বা শাড়ি, সিঁদুর, আলতা এবং অন্যান্য আলংকারিক বা শৃঙ্গার সামগ্রী অর্পণ করলে মা অত্যন্ত খুশি হন।
ঐতিহ্যবাহী ভোগ ও প্রসাদঃ
১) বাঙালি ঐতিহ্য অনুসারে, মা দুর্গার প্রধান এবং প্রিয় ভোগ হলো গোবিন্দভোগ চাল ও মুগ ডাল দিয়ে তৈরি সুগন্ধি খিচুড়ি এবং হরেক রকম সবজি দিয়ে তৈরি লাবড়া।
২) দুধ, চিনি এবং গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে তৈরি পায়েশ দেবীর অন্যতম প্রিয় মিষ্টি অন্ন।
৩) নারকেল দিয়ে তৈরি মিষ্টি (যেমন নারকেল নাড়ু) এবং ছানার সন্দেশ দেবীকে ভোগ হিসেবে দিলে মা অত্যন্ত খুশী হন।
৪) অষ্টমীর দিন সাধারণত দেবীকে ঘি-এ ভাজা ফুলকো লুচি এবং সুস্বাদু ছোলার ডাল বা আলুর দম নিবেদন করলে মা প্রসন্ন হন।
৫) ভোগের থালায় মিষ্টি ও টক স্বাদের এই চাটনি মা দুর্গার ভোগে নিবেদন করা অপরিহার্য।