কোন গণেশ শুভ ফল দাতা, বাম দিকের শুঁড় যুক্ত গণেশ না ডান দিকের শুঁড় যুক্ত গণেশ? এই প্রশ্নে সাধারণ মানুষ খুব দ্বিধায় পড়েন। সহজে বুঝে উঠতে পারেন না কোন গণেশ মুর্তির পূজা করা উচিৎ। গণেশের অপর নাম সিদ্ধি দাতা হলেও অনেক সময় তা পূরণ হয় না। গণেশের নাম স্মরণ করলে যাত্রা শুভ হয়, কার্যসিদ্ধি হয়, বাধা বিঘ্ন থেকে রেহাই পাওয়া যায়, এই জন্যই গণেশের অপর নাম বিঘ্ননাশক। কিন্তু জ্যোতিষ ও বাস্তু বিদের মতে সব গণেশ মূর্তিই সমান ফল দান করেন না । বিভিন্ন উপাদান ও গঠন বৈচিত্র্যের উপর নির্ভর করে তার গুণাবলি । বাস্তু ও তন্ত্র মতে, দক্ষিণাবর্ত শুঁড় বিশিষ্ট গণেশ মুর্তি কি অশুভ ফল দান করে ? আজ জানাব সেই তথ্য।
পৌরাণিক মতে, গণেশের জন্ম হয়েছিল মা দুর্গার ইচ্ছা অনুসারে, কিন্তু মুন্ডচ্ছেদ হওয়ার পর শিবের চেষ্টায় মস্তক ও জীবন ফিরে পান। এই দিক থেকে দেখলে গণেশের দেহ তাঁর মায়ের এবং মস্তক তথা চেতনা তাঁর পিতার দেওয়া। আর অন্য দিকে শিব হলেন দক্ষিণ দিক নির্দেশের প্রতীক বা পুরুষ। মানব দেহের ডান দিকের নাড়ীকে পিঙ্গলা বা‘পিতৃ নাড়ী’ বলা হয়। শিব শ্মশানবাসী, ধ্যানস্থ, উদাসীন,সংসার ত্যাগী,ভোলানাথ কিন্তু রাগলে প্রলয় সৃষ্টি করেন। ডান দিকে শুঁড় বিশিষ্ট গণেশের মধ্যে এই গুণের সমাহার রয়েছে বলে মনে করা হয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে, ডান দিকের শুঁড়যুক্ত গণেশ সিদ্ধিদাতা বিশেষ অত্যন্ত কড়া নিয়ম ও আচার-অনুষ্ঠানের দাবিদার। এই অবস্থায় তাঁর শুঁড় যদি ডান দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকে, তবে ধরতে হবে, সেই মূর্তির মধ্যে সংসারের প্রতি ঔদাসীন্য রয়েছে। তিনি সিদ্ধি বিনায়ক হলেও তাঁর কাজ মোক্ষ প্রদান করা।
হিন্দু শাস্ত্র ও বাস্তু মতে ডান দিকে শুঁড় থাকলে এর কিছু বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে যেমন - ডান দিকটি সূর্য ও পুরুষ শক্তির প্রতীক, যা অনুশাসন এবং উচ্চ আধ্যাত্মিক শক্তির নির্দেশ করে। দক্ষিণাবর্ত গণেশ মূর্তির কাজ জাগতিক সুখের ঊর্ধ্বে গিয়ে মোক্ষ বা মুক্তি প্রদান করা। ডান দিকের শুঁড়ের গণেশ অত্যন্ত জাগ্রত ও শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। তাই বাড়িতে এই মূর্তি রাখার চেয়ে কঠোর নিয়ম নিষ্ঠা ও শুদ্ধাচার মেনে পুজো করার স্থান মন্দিরে রাখাই শ্রেয়।