Calcutta Television Network

দেবী চন্দ্রঘন্টা কিভাবে বাড়াবে আপনার আত্মবিশ্বাস,ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ়তা ?

দেবী চন্দ্রঘন্টা কিভাবে বাড়াবে  আপনার আত্মবিশ্বাস,ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ়তা ?
24 September 2026 • 02:55:29 pm

আমাদের কর্মময় জীবনে আত্মবিশ্বাস,ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ়তা না থাকার কারণে আমরা কোন কাজ গুছিয়ে করে উঠতে পারি না,নিজেকে ঠিকমত উপস্থাপন করতে পারি না তাই বার বার ব্যর্থ হই। কেন এমন হয়? কি করলে আত্মবিশ্বাস,ইচ্ছা শক্তি ও দৃঢ়তা বাড়বে,আজ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

আমাদের শরীরের সাতটি চক্রের মধ্যে যদি মণিপুর চক্র দুর্বল হয় তবে এমনটা ঘটতে থাকে। মণিপুর চক্র শরীরে কোথায় থাকে? মণিপুর চক্র থাকে নাভি এবং বুকের হাড়ের সংযোগ স্থলের মাঝে, অর্থাৎ নাভির ঠিক ওপরে যেখানে পাঁজরের হাড় দুটো মিশেছে,সেখানে।  'মণি' অর্থ রত্ন এবং 'পুর' অর্থ শহর; তাই একে রত্নের শহরও বলা হয়। যোগীদের মতে মণিপুর চক্র জাগ্রত হলে  হলুদ রঙের ১০টি পাপড়ি যুক্ত প্রস্ফুটিত পদ্মফুল অনুভব করা যায়।। এটি হল আগুনের প্রতীক। যোগ ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, মণিপুর চক্র  বা সোলার প্লেক্সাস চক্র হলো মানব দেহের তৃতীয় প্রধান শক্তি কেন্দ্র। এই চক্র আমাদের আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান, এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। ফলে জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সাহসের সাথে সঠিক পদক্ষেপ নিতে এই কেন্দ্রটি সাহায্য করে।

দেবী যোগ কিভাবে এল?

যোগ শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী চন্দ্রঘণ্টা মানব শরীরের নাভির উপরে অবস্থিত মণিপুর চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই তাঁর সাধনা করলে মনের ভয় ও দুঃখ দূর হয়, অহংকার বিনাশ পায় এবং ভক্তদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ শক্তি, সাহস ও পরম শান্তির বিকাশ ঘটে। কারণ দেবী চন্দ্রঘণ্টা হলেন হিন্দু দেবী নবদুর্গার তৃতীয় রূপ। আর মণিপুর চক্রটিও অবস্থান করে শরীরের তৃতীয় স্থানে,তাই সনাতন ধর্মে তাঁকে ভয় ভীতি, অশুভ শক্তির বিনাশকারী এবং ভক্তদের রক্ষা কর্তা হিসেবে পূজা করা হয়। 

পূজা করার পৌরাণিক ব্যখ্যা কি?

পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দেবী পার্বতী যখন ভগবান শিবকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন, তখন শিব তুষ্ট হয়ে বিবাহে রাজি হন। শিব বিবাহ কালে বিকট রূপ ধারণ করে গায়ে ছাই মেখে, জটাজুট, গলায় সর্প ও বরযাত্রী হিসেবে ভূত-প্রেত, পিশাচ ও অঘোরীদের নিয়ে আসতে দেখে সবাই ভয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যায়,মা মেনকাও মূর্ছিতা হন। এমন সময় বিয়ে পণ্ড করার জন্য আবার তারকাসুরও আক্রমণ করে। উপায় না দেখে  বিবাহকার্য নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দৃঢ়তার সাথে দেবী পার্বতী  ত্রিনেত্রা দশভুজা সিংহবাহিনী রূপে আবির্ভূতা হন ও চন্দ্রসম বিশাল ও শুভ্র ঘণ্টা বাজিয়ে সকল দৈত্যকে বিতাড়ন করেন ও সুষ্ঠভাবে বিবাহ সম্পন্ন করেন। 

দেবী চন্দ্রঘণ্টা হলেন মা দুর্গার নবদুর্গার তৃতীয় রূপ, যাঁকে নবরাত্রির তৃতীয় দিনে পুজো করা হয়। তাঁর কপালে ঘণ্টার আকৃতির অর্ধচন্দ্র থাকে, তাই তাঁর নাম 'চন্দ্রঘণ্টা'