ভারতীয় সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার রাতে সঠিক নিয়ম ও আচার মেনে চললে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয়। সেই সাথে ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায় এবং আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটে। 'কোজাগরী' শব্দটির প্রচলিত অর্থ- কে জেগে আছো ? প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মা লক্ষ্মী মর্ত্যে আসেন এবং যারা জেগে থেকে তাঁর আরাধনা করেন, তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন ও আশীর্বাদ দেন। সেই কারণেই ভাগ্যের উন্নতি এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে লক্ষ্মী পূজার রাতে যে দুটি কাজ আপনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করবেন,তা হলোঃ
১) পূজার সময় একটি ছোট (ঝুড়ি) বেত বা বাঁশের তৈরি 'টুকরি'তে চাল ভরে তার ওপর একটি পান, সুপারি, হরিতকি, একটি রূপা বা যে কোন ধাতব মুদ্রা এবং পাঁচটি কড়ি একসঙ্গে রেখে লাল চেলি দিয়ে ঢেকে মা লক্ষ্মীর সামনে রেখে উৎসর্গ করুন। পূজা শেষে এটি টুকরিটি ঐ লাল চেলিতে মুড়ে আলমারি বা টাকা রাখার জায়গায় রেখে দিন। মনের বিশ্বাস নিয়ে কাজটি করলে অবশ্যই মা লক্ষ্মীর কৃপা পাবেন।
২) কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় ক্ষীর বা আতপ চালের পায়েশ সারারাত রেখে দিন। (অবশ্যই নেট বা মশারীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবেন) পৌরাণিক কাহিনী ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা মতে, মসুদ্র মন্থন থেকে উঠে আসা অমৃত ভর্তি যে কলসী মা লক্ষ্মী এনেছিলেন,শ্রী বিষ্ণুর নির্দেশে সেই অমৃত মা লক্ষ্মী এই চাঁদনী রাতে মর্ত্যবাসীর রাখা ঐ পায়েসে মিশিয়ে দেন। ফলে পুরো পায়েস বা ক্ষীর অমৃতে পরিণত হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই প্রসাদ পরিবারের সকলে মিলে গ্রহণ করলে পরিবারের সদস্য়রা দীর্ঘজীবী ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন। সেই সাথে সৌভাগ্য ও সমৃদ্ধিও লাভ হয়।
বিঃ দ্রঃ লক্ষ্মী পূজার দিন ধার দেওয়া বা ধার নেওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকুন ।