ভারতীয় জ্য়োতিষ শাস্ত্র অনুসারে গ্রহরা ফল দানে ব্যর্থ, ফল দাতা হলেন নক্ষত্র গণ। নক্ষত্রের গুনেই গ্রহরা শক্তিশালী বা দুর্বল হয়। জন্ম ছকে শুভ রাশির সঙ্গে শুভ নক্ষত্র অবস্থান করলে তবেই সেই গ্রহ শুভ ফল প্রদান করে। প্রশ্ন হল এই নক্ষত্রদের জন্ম কিভাবে হল? তারা কিভাবে ফল দেয়? আজ জানাব সেই তথ্য।
হিন্দু মহাকাব্য ও পুরাণ যেমন মহাভারত ও হরিবংশ অনুযায়ী, দক্ষ প্রজাপতির কন্যারা হলেন নক্ষত্র। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, চন্দ্রদেবের বিবাহ হয়েছিল ব্রহ্মা-পুত্র প্রজাপতি দক্ষের ২৭ জন কন্যার সঙ্গে। সনাতন ধর্মে এই সাতাশ জন কন্যা, ২৭টি নক্ষত্র বা নক্ষত্রমণ্ডলী (যেমন: অশ্বিনী, ভরণী, কৃত্তিকা, রোহিণী ইত্যাদি) হিসেবে পরিচিত।
চন্দ্রদেবের বিবাহের মূল ঘটনা কী?
চন্দ্রদেব ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন এবং গুণী দেবতা। তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে প্রজাপতি দক্ষের কন্যারা তাঁকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। দক্ষ রাজাও আনন্দের সাথে তাঁর ২৭টি কন্যার বিবাহ চন্দ্রদেবের সাথে দিতে রাজি হন। তবে বিবাহের সময় দক্ষ একটি বিশেষ শর্ত দিয়েছিলেন ও প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন যে,— চন্দ্রদেবকে তাঁর সকল স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ করতে হবে ও সবাইকে সমান ভালোবাসতে হবে। চন্দ্রদেবও এই শর্তে সম্মত হয়ে তাঁদের বিবাহ করেন। বিবাহের পর চন্দ্রদেব তাঁর দেওয়া কথা রাখতে পারেননি। তিনি তাঁর ২৭ জন স্ত্রীর মধ্যে রোহিণীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং তাঁর সাথেই অধিকাংশ সময় কাটাতেন। এর ফলে বাকি ২৬ জন স্ত্রীর মানসিক অবস্থা ভিন্ন রূপ হতে থাকে। এই ঘটনা শুনে দক্ষপ্রজাপতি চন্দ্রকে ধমক দিলে চন্দ্র প্রতিদিন এক এক জন সঙ্গে থাকতেন। চন্দ্রের স্ত্রীদের এই মানসিক অবস্থাই হল ঐ নক্ষত্রের গুন বা দোষ।
ভারতীয় পন্ডিতগণ জ্য়োতিষ শাস্ত্রে সাতাশটি নক্ষত্রের অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে এই নক্ষত্রগুলির অধিপতি গ্রহ ও গুনাবলী এবং ফল দানের কথা উল্লেখ করেছেন। সাতাশটি নক্ষত্রের নাম ও তার অধিপতি গ্রহ- ১) অশ্বিনী-কেতু, ২) ভরণী-শুক্র, ৩) কৃত্তিকা-রবি, ৪) রোহিণী-চন্দ্র ৫) মৃগশিরা-মঙ্গল, ৬) আর্দ্রা- রাহু, ৭) পুনর্বসু-বৃহস্পতি, ৮) পুষ্যা-শনি, ৯) অশ্লেষা- বুধ, ১০) মঘা- কেতু, ১১) পূর্ব-ফাল্গুনী-শুক্র, ১২) উত্তর-ফাল্গুনী-রবি, ১৩) হস্তা-চন্দ্র, ১৪) চিত্রা- মঙ্গল, ১৫) স্বাতী-রাহু, ১৬) বিশাখা- বৃহস্পতি, ১৭) অনুরাধা- শনি, ১৮) জ্যেষ্ঠা- বুধ, ১৯) মূলা-কেতু, ২০) পূর্বাষাঢ়া-শুক্র, ২১) উত্তরাষাঢ়া-রবি, ২২) শ্রবণা-চন্দ্র, ২৩) ধনিষ্ঠা- মঙ্গল, ২৪) শতভিষা- রাহু, ২৫) পূর্ব-ভাদ্রপদ-বৃহস্পতি, ২৬) উত্তর-ভাদ্রপদ-শনি ও ২৭) রেবতী- বুধ।
চন্দ্রের এই নক্ষত্রগুলি যদি মিত্র ঘরে অবস্থান করে তবে শুভ দেবে, আর শত্রু ঘরে অবস্থান করলে অশুভ ফল দেবে।