অনেক তান্ত্রিক ও জ্যোতিষীরা শত্রু দমনে কৌশিকী অমাবস্য়াকে অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসাবে মনে করেন। কারণ, এই অমাবস্যা তিথিতেই মহাদেবের নির্দেশে, দেবী কালিকার পরিবর্তিত রূপ দেবী কৌশিকী দেবতাদের চির শত্রু অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন। এই কারণেই এই অমাবস্যা তিথি তন্ত্র সাধনা ও শত্রু দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।তন্ত্র মতে এই অমাবস্যার রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এ দিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দ্বার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয় ও সাধক নিজের ইচ্ছামতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি নিজের সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করে ও সিদ্ধি লাভ করে। তাই তন্ত্রসাধনা ও বশীকরণের জন্য এই অমাবস্যা খুবই গুরুত্বপুর্ণ বলে মনে করা হয়।
১) অমাবস্যার দিন আপনার বাড়িঘর খুব সুন্দর ভাবে পরিষ্কার রাখুন। আগের দিনের রান্না করা বাসি খাবার রাখবেন না। কোনও এঁটো বাসনপত্র যেন না থাকে। ঐ দিন কোনও পুরনো, ছেঁড়া জামাকাপড় পরবেন না। বাড়ির চারিপাশও পরিষ্কার রাখুন।
২) শাস্ত্র অনুযায়ী কৌশিকী অমাবস্যায় সংযম পালন করা জরুরি। তাই এদিন উপবাস পালন করতে পারলে খুবই ভালো। পুরোপুরি নির্জলা উপবাস রাখতে না পারলে নিরামিষ আহার করুন।
৩) কৌশিকী অমাস্যায় মা তারার পায়ে রক্ত জবা ফুল ও লাল সিঁদুর নিবেদন করে ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা করুন। এর ফলে মা তারার আশীর্বাদে আপনার জীবন থেকে অমাবস্যার কালো ছায়া দূর করবে।
৪) এই অমাবস্যার রাতে বাড়ির সদর দরজার সামনে দুটি তিলের তেলের প্রদীপ ও ঠাকুর ঘরে ঘি এর জ্বালাবেন। এর ফলে বাড়ির সমস্ত নেতিবাচক শক্তি শেষ হয়ে শুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটবে ও শত্রুরা বশে থাকবে।
৫) জীবনের সব সমস্যা, সব অসুবিধা দূর করতে এই টোটকা ব্যবহার করুন। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার সন্ধ্যাবেলা একটি কুঁয়োতে এক গ্লাস দুধ ঢালুন। তাতে আপনার জীবনের সমস্ত বাধা বিপত্তি ও মনের গ্লানি দূর হবে।
৬) শত্রু দমনে এই দিন নিশুতি রাতে নিকটবর্তী কোন চৌরাস্তার মাঝখানে দাঁড়ান। খুব সাবধানে একটি পাতি লেবুকে চার টুকরো করে চারিদিকে ছড়িয়ে দিন- খেয়াল রাখবেন কেউ যেন আপনাকে দেখতে না পায়।
শাস্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যা এক বিশেষ ধরণের অমাবস্যা। এই অমাবস্যা তন্ত্র সাধনা ও বশীকরণের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।