ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিকে প্রধানত কৌশিকী অমাবস্যা বলা হয়। এছাড়া এটি কুশাগ্রহণী অমাবস্যা বা পিঠোরী অমাবস্যা নামেও পরিচিত। ভাদ্র মাসের অমাবস্যাটি সনাতন ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাকে বাংলায় ভাদ্রপদ অমাবস্যাও বলা হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্র ও তন্ত্রমতে, এই বিশেষ তিথিতে নির্দিষ্ট কিছু আচার ও উপাচার পালন করলে কুণ্ডলীর বিভিন্ন গ্রহ দোষ, পিতৃদোষ এবং কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
গ্রহ দোষ কাটানোর জন্য ভাদ্র অমাবস্যায় কী করবেনঃ
১) এই তিথিতে ভগবান শিবের আরাধনা করলে চন্দ্র রাহু ও চন্দ্র কেতু জনিত গ্রহ দোষ এবং কালসর্প দোষের প্রভাব অনেকাংশে হ্রাস পায়।
২)অমাবস্যার দিন সকালে বা সন্ধ্যায় শিবলিঙ্গে দুধ, গঙ্গার জল এবং মধু দিয়ে অভিষেক করুন। শিবলিঙ্গে চন্দন মাখানো ১০৮টি বেলপাতা অর্পণ করুন। মহাদেবকে ক্ষীর, মিষ্টি বা ফল নিবেদন করে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয় ও বিভিন্ন গ্রহের দোষ খন্ডন হয়।
৩) জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, রাহু ও সূর্যের অশুভ সংযোগে পিতৃ দোষ তৈরি হয়, যা জীবনের সার্বিক উন্নতি আটকে দেয়। ভাদ্র অমাবস্যা পিতৃতর্পণের মাধ্যমে এই দোষ খন্ডন করুন। সকালে কোনো পবিত্র নদীতে স্নান করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তিল ও জল অর্পণ করলে পিতৃদোষ খন্ডিত হয়।
৪) এই দিনটিকে 'কুশগ্রহণী অমাবস্যা'ও বলা হয়। ধর্মীয় কাজের জন্য এই দিন নদী বা মাঠ থেকে কুশ সংগ্রহ করে ঘরে রাখলে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পাওয়া যায়।
৫) অমাবস্যার দিন সন্ধ্যায় কোনো অশ্বত্থ গাছের তলায় খাঁটি সরিষার তেলের প্রদীপ জ্বালান এবং গাছের গোড়ায় দুধ মিশ্রিত জল ঢালুন।
৬) যেহেতু এটি কৌশিকী অমাবস্যা, তাই এই রাতে মা তারা বা দেবী কালীর আরাধনা করলে শনি ও রাহুর মতো ক্রূর গ্রহের কুপ্রভাব কেটে যায়। সম্ভব হলে মা তারা বা কালী মন্দিরে গিয়ে পুজো দিন এবং জবা ফুল নিবেদন করুন। সন্ধ্যার পর ঘরের মূল প্রবেশদ্বারের দুপাশে দুটি ঘিয়ের জ্বালিয়ে রাখুন, যাতে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
৭) অশুভ গ্রহের দশা বা দোষ কাটাতে অমাবস্যার দিন দান ধ্যান করার বিকল্প কোন উপায় নেই। তাই অভাবী বা দরিদ্র মানুষকে চাল, ডাল, কালো তিল, বস্ত্র অথবা সামর্থ্য অনুযায়ী টাকা পয়সা দান করুন।
৮) কালো কুকুরকে তেল মাখানো রুটি এবং গরুকে ঘি মাখানো রুটি খাওয়ালে শনি গ্রহের দোষ খণ্ডন হয়।
৯) অমাবস্যার সন্ধ্যায় কোনো পুকুর বা বদ্ধ জলাশয়ে তিন এক চামচ কাঁচা দুধ ঢালুন। এতে জীবনের আকস্মিক বাধা দূর হবে।
১০) জলহীন শুকনো নারকেল ফুটো করে তার ভেতর চিনি দিন। এরপর সেটি কোনো নির্জন স্থানে রেখে দিন যাতে পিঁপড়েরা তা খেতে পারে। এতে রাহু ও কেতুর অশুভ দশা নাশ হবে, মানসিক শান্তি পাবেন।
খেয়াল রাখবেন, অমাবস্যার দিন বাড়িতে কোনো প্রকার ঝগড়া-বিবাদ বা তামসিক আহার ,আমিষ ও মদ্যপান এড়িয়ে সংযম জীবন পালন করুন।