Calcutta Television Network

শনির কু-দৃষ্টি থেকে বাঁচতে ভাদ্র মাসে কী খাবেন?

শনির কু-দৃষ্টি থেকে বাঁচতে ভাদ্র মাসে কী খাবেন?
30 August 2026 03:38:01 pm

শনির শুভ দৃষ্টি মানুষকে ধনবান,শিল্পপতি,প্রভাবশালী করতে পারে,কিন্তু শনির কু-দৃষ্টি মানুষকে গৃহ হীন পথের ভিখারীতে পরিণত করে। শনির কু-দৃষ্টি থেকে বাঁচতে ও শনিদেবের কৃপা পেতে শাস্ত্রে ভাদ্র মাসে তাল খাওয়ার বিধান রয়েছে।  ভাদ্র মাসে তাল খাওয়ার পেছনে সনাতন ধর্মে গভীর জ্যোতিষীয়, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা রয়েছে। এই মাসে পাকা তালের নানাবিধ ব্যবহার কেবল একটি খাদ্য সংস্কৃতির অংশ নয়,বরং গ্রহদোষ খণ্ডন ও পুণ্য অর্জনের বিরাট সুযোগ থাকছে।

হিন্দু ধর্মের জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, পাকা তাল শনিদেবের কুপ্রভাব ও গ্রহদোষ মুক্তিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। পাকা তাল হলো কর্মফল দাতা শনিদেবের অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল। ভাদ্র মাসে পাকা তালের তৈরি পদ খাওয়া এবং তা গরিব বা ব্রাহ্মণকে দান করার নিয়ম রয়েছে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভাদ্র মাসের শনিবার রাতে (শনির নক্ষত্র হলে আরও ভাল হয়) তালের পিঠে কলা পাতায় পুড়িয়ে খেলে শনির কু-দৃষ্টির প্রভাব অনেকটা কমে বলে বিশ্বাস করা হয়। এমন কী এর ফলে কোষ্ঠীতে থাকা শনির সাড়ে সাতি, ধাইয়া বা মহাদশার মতো শনির কুপ্রভাব বা গ্রহদোষ প্রশমিত হয়। শনিদেবের কৃপা মেলায় জীবনে স্থায়িত্ব আসে এবং আকস্মিক বাধা-বিপত্তি কেটে যায়।

ভাদ্র মাসেই সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান দুটি তিথি—শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী ও তাল নবমী উদযাপিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর অগ্রজ বলরামের অত্যন্ত প্রিয় খাবার হলো তালের বড়া, তাল ক্ষীর বা তালের নানাবিধ মিষ্টি পদ। জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণকে তালের তৈরি নৈবেদ্য উৎসর্গ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আবার ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিকে বলা হয় 'তাল নবমী'। এই দিনে ব্রত পালন করে তালের তৈরি বিভিন্ন পদ দেবী দুর্গা বা শ্রী রাধিকাকে অর্পণ করে পরে প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি, সন্তান লাভের সম্ভাবনা ও তার ভাগ্য ভালো হয় বলে জ্যোতিষ এবং পুরাণে উল্লেখ আছে।


×
  • CTVN