জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, একটি গ্রহ কোন জাতকের জন্ম কুণ্ডলী অশুভ স্থানে বসলে বা গোচরে বিশেষ কিছু অশুভ অবস্থানের কারণে অশুভ বা নেতিবাচক ফল দিয়ে থাকে। গ্রহদের অশুভ ফল দেওয়ার একাধিক কারণের মধ্যে প্রধান কারণ গুলো হলো-
গ্রহের অবস্থান ও শক্তিগত দুর্বলতা-
নীচস্থ ঘরঃ প্রতিটি গ্রহ একটি নির্দিষ্ট রাশিতে দুর্বল বা 'নীচস্থ' হয় (যেমন: রবির তুলা রাশিতে)। এবং যদি অশুভ স্থানে অবস্থান করে তখন এই অবস্থানে গ্রহ শুভ ফল দিতে পারে না।
অশুভ ঘরঃ অশুভ ভাবে অবস্থান অর্থাৎ কুণ্ডলীর ৬, ৮ এবং ১২ নম্বর ভাবকে শত্রু, মারক ও দুস্থান বা অশুভ ঘর বলা হয়। গ্রহ এই ঘরে বসলে সাধারণত অশুভ ফল দেয়।
দাহ্য ভাবঃ কোনো গ্রহ (বুধ গ্রহ বাদে) সূর্যের খুব কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট ডিগ্রির মধ্যে চলে এলে তা 'অস্তমিত' বা দগ্ধ হয়ে যায় এবং সেই গ্রহের নিজস্ব শুভ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
গ্রহ যুদ্ধঃ দুটি শত্রু গ্রহ খুব কাছাকাছি ডিগ্রিতে অবস্থান করলে তাদের মধ্যে যুদ্ধ হয়, এতে পরাজিত গ্রহটি অশুভ ফল দেয়।
শত্রু ঘরে অবস্থানঃ কোনো গ্রহ যদি তার শত্রু গ্রহের রাশিতে অবস্থান করে (যেমন: শনির ঘরে সূর্য), তবে তার শুভত্ব কমে যায়।
পাপ কর্টারি যোগঃ কোনো শুভ গ্রহের ঠিক আগের এবং পরের ঘরে যদি দুটি পাপ গ্রহ (যেমন: রাহু, কেতু, শনি বা মঙ্গল) থাকে, তবে সেই শুভ গ্রহটি শুভ ফল দিতে পারে না।
অশুভ দৃষ্টি বিনিময়ঃ কোনো শুভ গ্রহের ওপর যদি শনি, মঙ্গল, রাহু বা কেতুর মতো ক্রূর গ্রহের পূর্ণ দৃষ্টি পড়ে, তবে তার ফল অশুভ হয়।
অশুভ দশা-অন্তর্দশাঃ জাতকের জীবনে যখন কোনো মারক বা বাধক গ্রহের মহাদশা বা অন্তর্দশা চলে, তখন অশুভ ফল প্রদান করে।
বক্রী অবস্থাঃ কোনো অশুভ গ্রহ যদি বক্রী বা উল্টো গতিতে চলে, তবে তার অশুভত্ব এবং নিষ্ঠুরতা আরও বেড়ে যায়।
গোচরের অশুভ অবস্থানঃ জন্মকালীন গ্রহের অবস্থান ঠিক থাকলেও, বর্তমানে গোচর বা গ্রহ পরিক্রমার সময় গ্রহটি যদি কোনো অশুভ স্থান দিয়ে যায় যেমন- শনির সাড়ে সাতি বা ঢাইয়া ইত্যাদি চলাকালিন অশুভ ফল দান করে থাকে।
লগ্ন ও রাশি অনুযায়ী কিছু গ্রহ প্রাকৃতিক ভাবে শুভ হলেও কুণ্ডলী অনুযায়ী 'অশুভ' বা 'মারক' হয়ে ওঠে। যেমন— মেষ লগ্নের জন্য বুধ এবং শুক্র শুভ ফল দেয় না।