কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার পর কৃষ্ণ পক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে উদযাপিত হয় ধনতেরাস উৎসব। এই ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশীর পুণ্য লগ্নে ধনের দেবতা কুবেরের পূজা করা হয়। জ্যোতিষ শাস্ত্রে কিছু বিশেষ রাশির জাতক-জাতিকাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা কুবের দেবের অত্যন্ত প্রিয়। সেই কারণেই তারা ধনদেবতার কৃপা লাভ করেন বলে তাদের ভাগ্যবান মনে করা হয়। ভারতীয় সনাতন জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, বৃষ, কর্কট, তুলা এবং ধনু রাশির জাতক-জাতিকারা হলেন সেই ভাগ্যবান রাশি। ধনদেবতার বিশেষ কৃপা ও আশীর্বাদ দিয়ে ৪রাশির হতে তুলে দেন কুবেরের খাজানা। কুবেরদেবের প্রিয় যে ৪ রাশির ওপর তাঁর বিশেষ কৃপা ও আশীর্বাদ থাকে তারা হলেনঃ
বৃষ রাশিঃ বৃষ রাশির অধিপতি গ্রহ হলো শুক্র, যা সুখ, ঐশ্বর্য ও বিলাস বহুল জীবনের কারক। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, এই রাশির জাতকদের ওপর ধনকুবেরের বিশেষ নজর থাকে। এরা অর্থ সঞ্চয় করতে পারদর্শী হন এবং ধনতেরাসের সময় কুবেরের আশীর্বাদে এদের আর্থিক উন্নতির পথ আরও প্রশস্ত হবে।
কর্কট রাশিঃ কর্কট রাশির জাতক-জাতিকারা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং বুদ্ধিমান হন। এরা একবার কোনো কাজের সংকল্প করলে তা পূরণ করেই ছাড়েন। এই কারণেই কর্কট হল কুবেরদেবের অত্যন্ত প্রিয় রাশি। কুবের দেবের কৃপায় এদের জীবনে সাধারণত বড় কোনো আর্থিক সংকট দেখা দেয় না। ধনতেরাসের পর কর্মক্ষেত্রে এদের দ্রুত উন্নতির পথ সুগম হবে।
তুলা রাশিঃ শুক্রের প্রভাবে থাকা তুলা রাশির জাতকরাও ভারসাম্য বজায় রেখে নিযন্ত্রিত বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে পছন্দ করেন। এই জন্যই কুবেরদেব এই রাশির জাতদেরকে পছন্দ করেন। কুবের দেবের আশীর্বাদে এরা খুব ছোট সুযোগকেও ভালো কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হন। ধনতেরাসের পর কুবেরদের কৃপায় সমাজে এদের মান-সম্মানের সাথে প্রচুর ধন-সম্পদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত রয়েছে।
ধনু রাশিঃ ধনু রাশির জাতকরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামেন না। এরা অত্যন্ত সৎ এবং কঠোর পরিশ্রমী হয়ে থাকেন। এই কারণেই কুবেরদেব ধনু রাশির জাতকদের ভালবাসেন। তাঁর কৃপায় এরা জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে ভাগ্যের জোরে প্রচুর ধন-সম্পত্তির মালিক হয়ে থাকেন। ধনতেরাসের পর ধনু রাশির জাতকদের ভাগ্যের নতুন দরজা খুলবে।